জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ৭৩ হাজার টাকার ওষুধ গায়েব

Printed Edition

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে বড় ধরনের গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (জাকসু) স্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক সম্পাদক এবং ওষুধ ক্রয় কমিটির সদস্য হুসনে মোবারক জানান, এসব ওষুধের বাজারমূল্য প্রায় ৭৩ হাজার ১১০ টাকা।

মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে ভিসি ও প্রোভিসি (প্রশাসন)-এর অনুরোধে পরিচালিত তাৎক্ষণিক যাচাই শেষে তিনি এ তথ্য জানান।

হিসাব অনুযায়ী গরমিল পাওয়া ওষুধগুলোর মধ্যে রয়েছে আলাট্রল চার হাজার ৬৪৫টি, অ্যাজিথ্রোমাইসিন ৯১২টি, সিপ্রোসিন ৪২০টি, প্যারাসিটামল পাঁচ হাজারটি, টাইমোনিয়াম ৭০০টি, ফ্যামোটিডিন দুই হাজার ৫০০টি, অ্যানটানিল ২০০টি, ন্যাপ্রো ৯৯০টি এবং ডমপেরিডোন চার হাজার ২০০টি।

হুসনে মোবারক বলেন, কয়েক দিন ধরেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসছিল যে মেডিক্যাল সেন্টারে সর্দি, জ্বর ও ঠাণ্ডাজনিত রোগের প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ গত ৩০ জুন প্রায় দুই লাখ টাকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছিল, যা অন্তত এক মাস চলার কথা ছিল।

তিনি জানান, মেডিক্যাল অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি, কমিটির সদস্য ড. সালেকুল ইসলাম এবং ডেপুটি রেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলাম ওষুধের হিসাব যাচাই করতে গিয়ে প্রথমে অ্যান্টিহিস্টামিন ওষুধে প্রায় পাঁচ হাজার পিসের গরমিল দেখতে পান। পরে স্টোরে সংরক্ষিত ওষুধ এবং ফার্মেসিতে সরবরাহের হিসাব মিলিয়ে দেখা যায়, গত ২১ দিনে মোট ১৯ হাজার ৫৬৭টি ওষুধের কোনো হিসাব পাওয়া যাচ্ছে না।

হুসনে মোবারক বলেন, বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং ভিসি গুরুত্বের সাথে এটি দেখছেন। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে বলে তার আশা। মেডিক্যাল সেন্টারের অ্যাম্বুলেন্স সেবা, ল্যাব টেস্ট এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কার্যক্রমেও কোনো ধরনের অনিয়ম বা কারচুপি হয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিফ মেডিক্যাল অফিসার (সিএমও) ডা: মোহাম্মদ শামসুর রহমান বলেন, ওষুধ গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের পুরো প্রক্রিয়া নির্ধারিত নিয়মে পরিচালিত হওয়ার কথা। স্টোরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাই ওষুধ গ্রহণ ও সংরক্ষণ করেন এবং স্টোরের চাবিও তার কাছেই থাকে। এ ধরনের গরমিল অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে মেডিক্যাল সেন্টারের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (স্টোর) মো: নূর-এ-কামাল কোনো অনিয়মের সাথে জড়িত নন বলে দাবি করেন। ঘটনা উদঘাটনে তদন্ত এবং সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানান তিনি।