কূটনৈতিক প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, হাউছিদের (ইয়েমেনের শিয়াপন্থী বিদ্রোহী গোষ্ঠি) চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার জন্য সৌদি আরবের নেতৃত্ব বাংলাদেশ সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিয়েছে। অন্য দিকে আমরা ইরানের সাথেও কথাবার্তা বলছি। তাই এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ইরানকে বাদ দেয়া বা আঘাত করা হিসেবে দেখার কারণ নেই।
গতকাল রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। সৌদি প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দেয়ার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, মূল বিষয়টা হলো সৌদি আরবের সাথে আমাদের একটি বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। সৌদির সাথে সম্পর্কটা শুধু ওমরাহ বা হজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না। এটিকে শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন না। ঢাকা ও রিয়াদের অত্যন্ত শক্তিশালী কৌশলগত সম্পর্ক হবে। তিনি বলেন, সৌদি আরব দু’টি পবিত্র মসজিদ মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এর সাথে আমাদের ধর্মীয় বিশেষ অনুভূতি জড়িত। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রিয়াদ যেকোনো সময় যদি কোনো সহযোগিতা চায়, এই দৃঢ় আত্মিক সম্পর্ক থেকে এবং নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে সবসময় সৌদি আরবকে সহায়তার জন্য সাড়া দেবে। বাংলাদেশের যে সক্ষমতা আছে, সেই অনুযায়ী সহযোগিতা করবে।
ভারতের আশ্রয় নেয়া ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির বলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে অপ্রাসঙ্গিক। টেরোরিস্ট নিয়ে কেউ কথা বলে না।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর জোট আসিয়ানের মহাসচিব সম্প্রতি বলেছেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের সদস্য হতে পারবে না। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার’ নয়, ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হতে চায়। এগুলোর আলাদা ক্যাটাগরি আছে।
ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুসারে, দীর্ঘদিন ধরেই আসিয়ানে যোগ দেয়ার আগ্রহ দেখিয়ে আসছে বাংলাদেশ ও পাপুয়া নিউগিনি। এমনকি পাপুয়া নিউগিনিকে সমর্থন দিয়েছিল আসিয়ানের সদস্যরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া। কিন্তু সম্প্রতি আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হর্ন নিশ্চিত করেছেন, জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে জায়গা পাচ্ছে কেবল পূর্ব তিমুর। এরপর আর কাউকে নেয়া হবে না।



