৩৪ বছর পর সুনির্দিষ্ট মিশন-ভিশন নির্ধারণ

শিক্ষার্থীবান্ধব সিদ্ধান্তে বদল আসছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে

Printed Edition
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করেন  ভিসি এ এস এম আমানুল্লাহ : নয়া দিগন্ত
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিসি এ এস এম আমানুল্লাহ : নয়া দিগন্ত

গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি

প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট মিশন ও ভিশন অনুমোদন করা হয়েছে। একই সাথে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের পথ সহজ করা, কলেজগুলোতে শিক্ষক সঙ্কট মোকাবেলা, দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণ এবং অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ফেরার সুযোগ দিতে একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

গতকাল গাজীপুরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ভিসি প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরো একবার পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন কলেজে শিক্ষক সঙ্কট কমাতে বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠনের নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। এ পুলে অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করা হবে।

শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী দক্ষতা বাড়াতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিং-গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন; কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সাথে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য চার ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্স এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতে, এসব উদ্যোগের ফলে শিক্ষক সঙ্কট মোকাবেলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ও মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করা সহজ হবে। একই সাথে দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ দিকে বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়ার দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিন বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) কোর্স এবং এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) কোর্স সম্পন্নকারীদের সনদের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রি সনদ এবং মাস্টার্স প্রিলিমিনারি সনদকে চার বছর সমতুল্য ডিগ্রি হিসেবে দেয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে যোগাযোগের লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এ ছাড়া সিজিপিএ ২.২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীরা যাতে শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে না পড়েন, সে বিষয়েও আলোচনা হয়। তাদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়েছে।