মুক্তির এক মাসের মাথায় শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গুলিবিদ্ধ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

কারাগার থেকে বের হওয়ার এক মাসের মাথায় রাজধানীর রামপুরায় প্রকাশ্যে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত হয়েছে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ (৫০)। গতকাল শুক্রবার দিনদুপুরে তাকে গুলি করা হয়। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, তার মাথায় দু’টি গুলি লেগেছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পুলিশ জানিয়েছে, মিজান হত্যা মামলায় পলাশ খান ২৫ বছর কারাভোগ করেছে। এক মাস আট দিন আগে সে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। ইয়াছিন খান পলাশ ‘কাইল্লা পলাশ’ নামে পরিচিত। পুলিশের ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’র তালিকায় একসময় তার নাম ছিল। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা মাসুদ’-এর নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রামপুরা থানা পুলিশ ও ডিবির একাধিক টিম মাঠে নেমেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক যুবক পলাশের মাথায় গুলি করে কিছু দূরে থাকা একটি মোটরসাইকেলের পেছনে উঠে শূন্যে গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।

আহতের ভাই আল আমিন জানান, দুপুরে পলাশ জুমার নামাজ শেষে রয়েল মিষ্টির দোকানের সামনের রাস্তায় অবস্থান করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে করে দুই যুবক এসে আকস্মিকভাবে পলাশের মাথা লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে আনার পরপরই তাকে জরুরি অস্ত্রোপচারের জন্য অপারেশন থিয়েটারে নেয়া হয়।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, রামপুরা টিভি সেন্টারের বিপরীতে মক্কি মসজিদ গলির মুখে পলাশ নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, দুই যুবক আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল। সুযোগ বুঝে তারা পলাশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। হামলাকারীরা মোটরসাইকেলটি কিছুটা দূরে রেখে এসেছিল। গুলিবিদ্ধ পলাশের অবস্থা গুরুতর। তার মাথায় গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে। আহত ব্যক্তি ‘কাইল্লা পলাশ’ নামে পরিচিত। সে দীর্ঘদিন কারাভোগের পর কিছুদিন আগে কারাগার থেকে মুক্তি পায়। ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।

২০০২ সালের ২৯ মে রামপুরায় যুবদল নেতা মিজানুর রহমান মিজানকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। এ মামলায় বিচারিক আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন পলাশকে। পরে উচ্চ আদালত তার সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পলাশের বাবার নাম ইউনুস খান। তার বাড়ি রাজধানীর পশ্চিম রামপুরা এলাকায়।