মো: সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ
ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নের তামাট গ্রামে দাঁড়িয়ে থাকা তিন গম্বুজ মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয়, এটি গ্রামীণ স্থাপত্য, ঐতিহ্য এবং এক ব্যক্তির দূরদর্শী উদ্যোগের জীবন্ত সাক্ষ্য। প্রায় ৭০ বছর আগে আধুনিক নির্মাণসামগ্রী ছাড়াই নির্মিত এই মসজিদ আজও দৃঢ়ভাবে টিকে রয়েছে, যা স্থানীয়দের কাছে বিস্ময় ও গর্বের বিষয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলা ১৩৬০ সালের দিকে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ফজর আলী মোল্লা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেন। সে সময় গ্রামাঞ্চলে রড-সিমেন্টের ব্যবহার ছিল সীমিত। ফলে নিজস্ব উদ্যোগে ইটভাটা স্থাপন করে ইট তৈরি করা হয় এবং চুন, ইটের গুঁড়ো ও দেশীয় উপকরণের সমন্বয়ে নির্মিত হয় তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই মসজিদ। নির্মাণকাজে টাঙ্গাইল থেকে দক্ষ রাজমিস্ত্রি আনা হয়েছিল বলে জানা যায়।
স্থাপত্য বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়াই নির্মিত অনেক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা আজও টিকে থাকার পেছনে রয়েছে দক্ষ কারিগরি, উপকরণের সঠিক ব্যবহার এবং নির্মাণে আন্তরিকতা। মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ তারই একটি উদাহরণ। বর্তমান মোতাওয়াল্লি মালেক মোল্লা জানান, তার বাবা ফজর আলী মোল্লা মসজিদের ভিত্তি স্থাপন ও আংশিক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন। তার মৃত্যুর পর কিছু সময় কাজ বন্ধ থাকলেও স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মাণকাজ শেষ হয়।
মসজিদটির আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো এর অর্থনৈতিক ভিত্তি। রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার জন্য ফজর আলী মোল্লা ১৭ একর জমি ওয়াকফ করে যান। বর্তমানে সেই জমির আয় থেকেই মসজিদের ব্যয়নির্বাহ করা হয়। ফলে এটি শুধু একটি স্থাপনা নয়, দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণমূলক উদ্যোগেরও অনন্য দৃষ্টান্ত।
বর্তমানে মসজিদটি পারিবারিক গণ্ডি ছাড়িয়ে একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মুসল্লিরা এখানে নিয়মিত নামাজ আদায় করেন। বিশেষ করে জুমা ও ঈদের জামাতে মসজিদ প্রাঙ্গণ মুসল্লিদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
সময়ের পরিবর্তনে অনেক কিছু হারিয়ে গেলেও তামাট গ্রামের এই মসজিদ এখনো অতীতের গৌরব, বিশ্বাস ও ঐতিহ্যের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।



