ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে
ডালাস স্টেডিয়ামের প্রথম সেমিফাইনাল ম্যাচে লড়াইটা হবে লামিনে ইয়ামাল এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের মধ্যে। খেলার আগ থেকে বলাবলি করা এই লড়াইই হয়েছে মাঠে। ম্যাচে অবশ্য উঠতি তারকা এবং পুরনো তারকার কেউ-ই গোল করতে পারেননি। তবে এই দ্বৈরথে এগিয়ে গেছেন টিনএজ মুসলিম তারকা লামিনে ইয়ামাল। বারবার আতঙ্ক ছড়াচ্ছিলেন ফরাসি রক্ষণভাগে। নিজে বার কয়েক গোলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও স্পেনকে লিড এনে দেয়া গোলের নেপথ্য নায়ক তিনিই। তার আদায় করা পেনাল্টি থেকেই মিকেল ওয়ারজাবাল এগিয়ে নেন ২০১০-এর চ্যাম্পিয়নদের। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে আরেকটি গোল করে স্পেন ২-০তে জিতে নেয় ম্যাচ। এতে ফ্রান্সকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলতে বাধ্য করে স্পেন চলে গেছে ফাইনালে। ফ্রান্সের তারকা স্ট্রাইকার থিয়েরি অঁরি ফক্স স্পোর্টসে বলেন, ‘ইয়ামাল যেভাবে বিপক্ষ সীমানায় ঢুকে সব ভেঙে দিচ্ছিলেন সেটাইতো গড়ে দিয়েছে পার্থক্য। দেখুন কিভাবে সে আদায় করলো পেনাল্টি।’
ঘটনাটা ম্যাচের ২০ মিনিটে। বক্সের মধ্যে হাওয়ায় ভাসা বল ক্লিয়ার করতে সাইড ভলি নিতে যাচ্ছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস ডিগনে। ততক্ষণে ইয়ামাল ছুটে এসে সেই বলের দখল নিতে যান। সেই সময়ে ডিগনের লাথি বলে না লেগে আঘাত করে ইয়ামালের উরুতে। ফলে সাথে সাথে পেনাল্টি কিকের নির্দেশ দেন রেফারি। এই স্পট কিক থেকে বল জালে পাঠাতে কোনো সমস্যাই হয়নি মিকেল ওয়ারজাবালের।
পুরো ম্যাচে ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখেন এই উঠতি ইয়ামাল। ২০ মিনিটের পেনাল্টির পর ফ্রান্স আরেকটি ধাক্কা খায় ডিফেন্ডার উইলিয়ান সাবিলা ইনজুরির জন্য মাঠ ছাড়লে। এতে যে বদলি ডিফেন্ডার মাঠে নামেন, তিনি আর সামলাতে পারেননি ইয়ামালকে। এই বার্সেলোনার ফরোয়ার্ড ডান দিক দিয়ে বারবার ঢুকে পড়ছিলেন বক্সে। একবার তো গোল করেই ফেলেছিলেন তিনি ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে। তবে রেফারির তোলা অফসাইডের পতাকা সেই গোল বাতিল করে দেয়। আরেকবার গতিতে বক্সে ঢুকে পোস্টের খুব কাছে চলে যান। শটও নিয়েছিলেন পোস্টে। কিন্তু বল গোলরক্ষকের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
এতে বলার অপেক্ষা রাখে না, স্পেন এই বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হোক বা না হোক, সেরা উঠতি খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতবেন তিনিই। ইয়ামালের গতি আছে, রয়েছে স্কিল। তার ডান পা বাম পা দু’টিই চলে।
এবারের বিশ্বকাপে বার্সেলোনার এই ফুটবলারের মাত্র একটি গোল। নেই কোনো অ্যাসিস্ট। তাতে কী। এর পরও স্পেন দলের আক্রমণভাগের প্রাণভোমরা এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার। ইয়ামালের তৈরি করা পেনাল্টিতে গোল করে ওয়ারজাবাল হলেন তৃতীয় স্প্যানিশ খেলোয়াড় যিনি একটিমাত্র বিশ্বকাপে পাঁচটি গোল করেছেন। ২০১০ সালের শিরোপা জয়ী দলের ডেভিড ভিয়া এবং ১৯৮৬ সালের আসরে এমিলিও বুত্রাগুয়েনো এই কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন। ফাইনালে গোল করতে পারলে ওয়ারজাবাল স্পেনের হয়ে নতুন এক রেকর্ড গড়বেন।
ম্যাচ শেষে লামিনে ইয়ামাল যখন ‘মিক্স জোন’ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন তার মাথায় ছিল ‘নিউ ইয়র্ক ইয়াঙ্কিস’-এর বেসবল ক্যাপ । যা বেশ মানানসই মনে হয়েছে।
ম্যাচের আগে নিজের ১৯তম জন্মদিনে তিনি বলেছিলেন যে, ফাইনাল উপলক্ষে তিনি নিউ ইয়র্ক (বা নিউ জার্সি) সফরে যেতে চান। সেই ইচ্ছাই পূরণ হতে চলেছে তার।



