একশ’ চুয়াত্তর.
তন্ত্রমন্ত্র জাদুটোনা দিয়ে তিনি বনের হিংস্র জীবজন্তু, বিশেষত বাঘের কবল থেকে মানুষকে রক্ষা করেন। তার মন্ত্রতন্ত্রে হিংস্র জীবজন্তু বশীভূত হয়ে পড়ে। মন্ত্রপুত নৌকায় কখনো বাঘ হামলা করে না। অনেক বাওয়ালী ও জেলে, এমনকি চোরাকারবারিরাও তার কাছ থেকে জাদুটোনা নিয়ে গহিন বনে কাজ করতে যায়। যে যার কাজে যায়। এখনো পর্যন্ত তার মন্ত্রের কার্যকারিতা মিথ্যা প্রমাণিত হয়নি। গুণীনরা বাওয়ালী মৌয়াল জেলেদের কাছে খুবই সম্মানিত ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি।
নাভিদ বুঝতে পারল বনের বিশালত্ব, অন্ধকারাচ্ছন্ন পরিবেশ, জনমানবহীনতা, হিংস্র মানুষখেকো বাঘ, বিশাল অজগর সাপ, কুমীর, কামট ও হাঙরের যত্রতত্র অবস্থিতির জন্য মানুষের মনে যে অসহায়ত্ববোধ জাগে, গুণীনগণের জাদুটোনায় মানুষকে কাজ করার শক্তি জোগায়। অন্ধকারাচ্ছন্ন বনে কুসংস্কার গেড়ে বসলেও তাতে প্রকৃতির তালভঙ্গ হয় না।
নাভিদ ইনতাজ আলীর কাছে গুণীনের দেখা সেই নৌকার কথা জিজ্ঞেস করল। ইনতাজ আলী জানাল, গুণীন তো কারো নাম জানে না। (চলবে)



