আল আমিন মণ্ডল গাবতলী (বগুড়া)
বগুড়ার গাবতলী উপজেলার কাগইল ইউনিয়নের আমলীচুকাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্যে পাঠদান কার্যক্রম চলছে। দীর্ঘদিনের পুরনো ও জরাজীর্ণ ভবনে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান ও শিক্ষা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছেন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি প্রায় চার দশক ধরে এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় বর্তমানে এটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের তিন কক্ষবিশিষ্ট ভবনটির বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা নিয়মিত খসে পড়ছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে ওঠে। ছাদের বিভিন্ন ছিদ্র দিয়ে বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে শ্রেণীকক্ষের ভেতরে পড়ে, ফলে পাঠদান ব্যাহত হয়। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের ছাতা মাথায় দিয়ে ক্লাস করতে হয়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার কারণে তারা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকে। শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান ও ইসরাফিল হোসেন বলে, যেকোনো সময় ছাদের অংশ ভেঙে তাদের ওপর পড়ে যেতে পারে। এতে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শুধু পাঠদানই নয়, বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। অতিবৃষ্টির সময় প্রধান শিক্ষকের কার্যালয়ের ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়ে অফিসকক্ষের মেঝে ভিজে যায়। এতে গুরুত্বপূর্ণ দাফতরিক নথিপত্র ও আসবাবপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ ছাড়া বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শ্রেণীকক্ষের সঙ্কট রয়েছে। চারপাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাও ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা: মুর্শিদা বেগম বলেন, ‘আমরা বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবস্থার কথা জানিয়েছি। অত্যন্ত পুরনো এই ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
সহকারী শিক্ষক মেহেদুল ইসলাম বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ অত্যন্ত জরুরি।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন এলাকাবাসী শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের প্রাণের ঝুঁকি দূর করে নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবিলম্বে নতুন ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হোক।
এ বিষয়ে গাবতলী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মাদ আলী সিদ্দিক বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করা হয়েছে। তথ্য ছকের আবেদনের ভিত্তিতে ভবনটির জরাজীর্ণ অবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।



