একই মহাদেশের দুই দেশ। একটির অবস্থান আফ্রিকার সর্ব দক্ষিণে। নাম দক্ষিণ অফ্রিকায়। অপরটি পশ্চিম আফ্রিকায়। এই দেশটি ক্যামেরুন। দুই বিশ্বকাপে এই দুই দেশের খেলোয়াড়রা এক ম্যাচে দু’টি করে লাল কার্ড পেয়েছেন। তবে ব্যতিক্রম রজার মিলার দেশ ক্যামেরুন। তারা দুই লাল কার্ড পেয়েও অর্থাৎ ৯ জনের দল নিয়েও জিতেছিল আর্জেন্টিনার বিপক্ষে। অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ জনে পরিণত হয়েও কোনো গোল দিতে পারেনি মেক্সিকোর বিপক্ষে। উল্টো দুই গোল হজম করে ০-২ গোলে হার নিয়ে মাঠ ছাড়ে। গতকাল মেক্সিকোর আজটেকা স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এই হার দিয়েই এবারের বিশ্বকাপ শুরু করেছে স্প্রিংবকরা। আর দারুণ জয়ে নক আউটে যাওয়ার পথে একধাপ এগিয়ে গেল মেক্সিকো।
ক্যামেরুনের সেই ইতিহাস গড়া ম্যাচ ১৯৯০ সালে ইতালির মাঠে। সেই আসরে দিয়েগো ম্যারাডোনার দেশ আর্জেন্টিনা খেলেছিল আগের বারের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে। অন্য দিকে আনকোরা দল ক্যামেরুন। তাই সবার ধারণা ছিল বড় জয়েই বিশ্ব ফুটবলেল শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখার মিশন শুরু করবে লাতিন আমেরিকার দেশটি। শেষ পর্যন্ত তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা ফাইনালেই খেলেছিল। তা প্রথম ম্যাচে ক্যামেরুনের কাছে হারের পরও। আর আফ্রিকার অদম্য সিংহরা বিশ্বকাপের বড় অঘটনের জন্ম দিয়েছিল সেই সময়কার বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ৯ জন নিয়েও হারিয়ে দিয়ে।
১৯৯০ সালের বিশ্বকাপের পর পেরিয়ে গেছে ৩৬ বছর। আবার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে একাধিক লাল কার্ডের ঘটনা। এবার একটি নয় দু’টি নয় তিনটি। এর দু’টি পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফুটবলাররা। অপরটি মেক্সিকান খেলোয়াড়। অর্থাৎ নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ ৯ জনে পরিণত হলেও মেক্সিকানরাও ১০ জনে পরিণত হয়েছিল। অর্থাৎ ক্যামেরুনের চেয়েও সুবিধাজনক অবস্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে জেতাতো দূরের কথা ড্রও করা সম্ভব হয়নি। হেরেছে দুই গোলে। লাল কার্ড পান স্পেপেলো সিথোলে ও থেম্বা জাওয়ানে।
১৯৯০ সালে ক্যামেরুনের আন্দ্রে কানা বিয়িক এবং বেঞ্জামিন মেসিন লাল কার্ড পান। ১০ জনে পরিণত হওয়ার পর তারা লিড নিয়েছিল কানা বিয়িকের ভাই ওমাম বিয়িকের হেডে করা গোলে। এরপর ৮৯ মিনিটে লাল কার্ড পান বেঞ্জামিন। ওই জয়ের সুবাদেই পরবর্তী সময়ে আরো দুই জয় নিয়ে প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল ক্যামেরুন। অবশ্য এরপর আর সেই অবস্থানে যেতেই পারেনি। অন্য দিকে মেক্সিকোর কাছে দুই গোলে হারা দক্ষিণ আফ্রিকা আদৌ নক আউটে যেতে পারবে কি না সন্দেহ। অবশ্য তারা কখনোই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হতে পারেনি। আসলে এখানেই পার্থক্য ক্যামেরুন ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে।
ওই জয়ের পর ক্যামেরুনের ডিফেন্ডার কানা বিয়িক বলেছিলেন, আমরা যখন ম্যাচের আগে ওয়ার্মআপ করতে যাই তখন আমাদের নিয়ে উপহাস করেছিল আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা; কিন্তু ম্যাচ শেষে আমরাই হেসেছিলাম। উল্টো আর্জেন্টিনার ফুটবলরাদের চোখে ছিল পানি।



