হাফিজুর রহমান ধনবাড়ী (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন নদী ও বিলে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি বা রিং জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বংশাই, ঝিনাই ও বৈরান নদী এবং হামিল বিল, বিলদুবলাইসহ বিভিন্ন জলাশয়ে এ জাল ব্যবহার করা হলেও কার্যকর নজরদারি ও অভিযান না থাকায় পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যদুনাথপুর এলাকার বংশাই নদী, পাইস্কা এলাকার বৈরান নদী, হামিল বিল ও বিলদুবলাইসহ বিভিন্ন এলাকায় জেলে ও সাধারণ মানুষ রিং জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার করছেন। বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের জালের ব্যবহার আরো বেড়ে যাওয়ায় অনেকে জলজ পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন। গত শনিবার এসব এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে নদী ও বিলের বিভিন্ন স্থানে রিং জাল পেতে মাছ শিকার করতে দেখা গেছে।
মৎস্যসম্পদ সংশ্লিষ্টদের মতে, রিং জালে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের ডিম, রেণু ও বিভিন্ন জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের সংখ্যা কমে যায়। একসময় এসব নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন জেলেরা। বর্তমানে নিষিদ্ধ জালের কারণে মাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ায় তারাও বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করায় প্রচলিত পদ্ধতিতে মাছ ধরা জেলেরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেক জেলের জালে মাছ না পড়ায় পেশা পরিবর্তনের চিন্তা করছেন। উপজেলার শতাধিক জেলে পরিবার বংশাই, বৈরান ও ঝিনাই নদীর মাছের ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। তারা বলেন, রিং জালের ব্যবহার তো কমছেই না, উল্টো স্থানীয় হাটবাজারে প্রকাশ্যে রিং জাল বিক্রি হচ্ছে। প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে।
ধনবাড়ী উপজেলা অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য কর্মকর্তা সৌরভ কুমার দে বলেন, নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি হামিল বিল ও বিলদুবলাই এলাকায় মাইকিংসহ অভিযান চালানো হয়েছে। অন্য নদী এলাকায় অভিযান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত ওই দুই বিলেই অভিযান হয়েছে। সঠিক তথ্য পেলে অন্য এলাকাতেও অভিযান পরিচালনা করা হবে।



