মেসির সাথে ফাইনালেই দেখা হচ্ছে ইয়ামালের

Printed Edition
একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিনে ইয়ামাল
একটি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি ও স্পেনের লামিনে ইয়ামাল

রফিকুল হায়দার ফরহাদ যুক্তরাষ্ট্র থেকে

ঘটনাটা একেবারেই কাকতালীয়। একেবারে শিশুকালে মেসির সাথে তার একটি ছবি। সেখানে লামিনে ইয়ামালকে শিশু অবস্থায় গোসল করাচ্ছিলেন লিওনেল মেসি। আর ১৯ জুলাই সেই স্পেনের তরুণ ফুটবল সেনশেসনই এখন আর্জেন্টাইন অধিনায়কের দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম বাধা। সেই সাথে কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেনের। তা কোপা ফিনালিসিমা নয়। বিশ্বকাপ জয়ের মিশনে। উল্লেখ্য, এবার কোপা ফিনালিসিমা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। নিঃসন্দেহে নিউ ইর্য়ক নিউ জার্সির ম্যাট লাইফ স্টেডিয়ামের ফাইনালে লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালই বেশি মাত্রায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন।

এই তরুণ ফুটবল তারকা ইয়ামাল কিছু দিন আগে মেসির সাথে তার ভাইরাল হওয়া ছবি এবং বিশ্বকাপের ফাইনালে তার মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন।

এফসি বার্সেলোনার এই তরুণ তারকা স্বীকার করেছেন, ফুটবলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির সাথে একই মাঠে খেলার স্বপ্ন তিনি দেখতেন। সেই স্বপ্ন এখন সত্যি হতে চলেছে।

তাদের গল্পকে চিরতরে জুড়ে দেয়া সেই আইকনিক ছবিটির প্রতিক্রিয়ায় ইয়ামাল আগে বলেছিলেন, আমি কিছুটা পরিণত হয়েছি এবং লিও-ও। আশা করি, আমি কোনো এক ফাইনালে তার মুখোমুখি হতে পারব, বিশেষ করে যেহেতু ফিনালিসিমা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। তবে এই মুসলিম ফুটবলারটির সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

ছবিটি ২০০৭ সালে এফসি বার্সেলোনা ফাউন্ডেশনের আয়োজিত একটি দাতব্য কার্যক্রমের সময় তোলা হয়েছিল। সেই ফটোশুটে ২০ বছর বয়সী লিওনেল মেসির সাথে অংশ নিয়েছিলেন দাতব্য র‌্যাফল ড্রয়ের মাধ্যমে নির্বাচিত কয়েকটি পরিবার। এক অসাধারণ কাকতালীয় ঘটনায় আর্জেন্টাইন এই মহাতারকা ছয় মাস বয়সী লামিন ইয়ামালের সাথে ছবি তোলার সুযোগ পান।

তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেনি যে ভবিষ্যতে কী ঘটতে চলেছে : মেসি হয়ে উঠবেন ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, আর সেই শিশুটি বেড়ে উঠে হয়ে উঠবে এই খেলার অন্যতম উজ্জ্বল এক তরুণ প্রতিভা। বহু বছর পর বার্সেলোনায় ইয়ামাল যখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন, তখন ছবিটি আবারো সামনে আসে এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

ভাইরাল হওয়া সেই ছবি সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে সংবাদমাধ্যম ডাজানকে ইয়ামাল হাসিমুখে জানান, বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসির সাথে একই মাঠে খেলতে পারাটা হবে অত্যন্ত বিশেষ এক অভিজ্ঞতা।

ছবিটির পেছনের গল্পটা যেন কোনো চিত্রনাট্যেও ফুটিয়ে তোলা প্রায় অসম্ভব। এক দিকে এক তরুণ মেসি, যিনি তখন এক কিংবদন্তিতুল্য ক্যারিয়ারের পথে যাত্রা শুরু করছেন; আর অন্য দিকে এমন এক শিশু, যে প্রায় দুই দশক পর বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হিসেবে আবির্ভূত হবে।

এখন ভাগ্য তাদের আবার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। তবে এবারের প্রোপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। কোনো ফটোশুট বা দাতব্য অনুষ্ঠানে নয়, বরং তারা একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছেন ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে; যেখানে বাজি ধরা হবেÑ কে জিতবে ২০২৬ বিশ্বকাপের ট্রফি। সে সাথে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম খোদাই করার সুযোগ।

স্পেন ও আর্জেন্টিনা। ফুটবল মাঠে এবার তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী। একজনের বিশ্বকাপ ধরে রাখা এবং অপরজনের তা পুনরুদ্ধারের মিশন। এই দুই দেশই কিন্তু স্প্যানিশ ভাষায় কথা বলে। দুই দেশের মানুষের মধ্যে শত শত বছরের পুরনো আত্মীয়তা। স্পেনের ক্রিস্টোফার কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কারের পর স্পেনের বসতি স্থাপন শুরু আটলান্টিকের পশ্চিম পাড়ে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ পর্ব শেষ করে তারা ছুটতে থাকে পানামা পেরিয়ে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর হয়ে দক্ষিণ দিকে। চিলি পেরিয়ে আর্জেন্টিনায়। স্রেফ গহিন আমাজন বনের কারণে কলম্বিয়া, পেরু ডিঙিয়ে স্প্যানিশরা ব্রাজিলে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর পর্তুগিজরা আটলান্টিকের পূর্ব পাড় দিয়ে ব্রাজিলে প্রবেশ করে। যে কারণে পুরো দক্ষিণ আমেরিকায় শুরু ব্রাজিলেই পর্তুগিজ ভাষা। বাকি সব জায়গায় স্প্যানিশ ভাষা।