পটুয়াখালীর রাবনাবাদ নদীর ওপর নির্মাণাধীন রাবনাবাদ সেতু প্রকল্পে মেয়াদ বাড়লেও পাঁচ বছরেও কাজ শুরু হয়নি। ভূমি অধিগ্রহণ, নদীশাসন ও আন্তঃসংস্থার সমন্বয় জটিলতায় আটকে থাকা প্রকল্পটি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়নে গাফিলতি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, লেবুখালী-বাউফল-গলাচিপা-আমড়াগাছিয়া জেলা মহাসড়কের ৭০তম কিলোমিটারে রাবনাবাদ নদীর ওপর সেতু নির্মাণ প্রকল্পটি ২০২২ সালের ২১ নভেম্বর একনেকে অনুমোদন পায়। ৫২১ কোটি ২৫ লাখ ৯৯ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি না হওয়ায় মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। তবে এ সময়েও প্রকল্পের কোনো ভৌত অগ্রগতি হয়নি।
প্রকল্পের আওতায় ৭.৫৩ হেক্টর ভূমি অধিগ্রহণ, প্রায় ৯৮৩ মিটার দীর্ঘ সেতু, ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার নদীশাসন, নতুন সড়ক, কালভার্ট, আন্ডারপাস ও টোল প্লাজা নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেতুটি নির্মিত হলে গলাচিপা, দশমিনা ও রাঙ্গাবালী উপজেলার প্রায় ১০ লাখ মানুষের সাথে ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা সভায় প্রকল্প পরিচালক জানান, ভূমি অধিগ্রহণই সবচেয়ে বড় বাধা। পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র, অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তন এবং ধর্মীয় উপাসনালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এড়িয়ে নতুন নকশা নির্ধারণের কারণে একাধিকবার ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব সংশোধন করতে হয়েছে। সর্বশেষ চলতি বছরের ৭ জুলাই ভূমি অধিগ্রহণ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ দিকে মূল সেতুর নির্মাণকাজের জন্য ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি হলেও এখন পর্যন্ত পাইল বোরিংসহ উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ শুরু হয়নি। নদীশাসনের কাজ বাস্তবায়নে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রক্রিয়াও এখনো চলমান।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব জেলা প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন, ঠিকাদারের কাছ থেকে সংশোধিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ এবং নিয়মিত তদারকির নির্দেশ দিয়েছেন। একই সাথে চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ না হলে পিপিআর ও পিপিএ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া এবং বাস্তবায়নে গাফিলতির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। আইএমইডির বিশ্লেষকদের মতে, ভূমি অধিগ্রহণ ও সমন্বয় জটিলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠতে না পারলে বর্ধিত সময়সীমার মধ্যেও প্রকল্প শেষ করা কঠিন হবে।



