নান্দাইলে বরাদ্দের ৩২ কোটি টাকা ফেরত যাচ্ছে

৮২ উন্নয়ন প্রকল্পে ধীরগতি

Printed Edition

সাজ্জাতুল ইসলাম ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে চরম অব্যবস্থাপনা ও ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও ৮২টি উন্নয়ন কাজের অধিকাংশই এখনো অসমাপ্ত। ফলে চলতি অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই প্রায় ৩২ কোটি টাকার সরকারি বরাদ্দ ফেরত যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, জিপিএস ও পিইডিপি প্রকল্পের আওতায় ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২২টি একাডেমিক ভবন, আট কোটি টাকা ব্যয়ে ৪৪টি প্রধান শিক্ষকের কক্ষ এবং চার কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ চলছে। তবে অধিকাংশ প্রকল্পই সময়মতো শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সরেজমিন জাহাঙ্গীরপুর বালিয়া পুকুরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায়, ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ের ভবনের কাজ এখনো পিলারে আটকে আছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকায় রডে মরিচা ধরেছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও অগ্রগতি হতাশাজনক। একই ইউনিয়নের দেউলডাংরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ের ভবনের কাজও আড়াই বছর ধরে ইটের গাঁথুনির পর স্থবির হয়ে আছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম আকন্দ বলেন, ভবন সঙ্কটের কারণে শিক্ষার্থীদের গাদাগাদি করে ছোট কক্ষে পাঠদান করাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া দক্ষিণ কয়রাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ের চারতলা ভবনের প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি।

চন্ডীপাশা মডেল স্কুল ও কুরাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে একই চিত্র দেখা গেছে। কোথাও প্লাস্টার অসম্পূর্ণ, কোথাও জানালার গ্রিল বা বিদ্যুৎ সংযোগের কাজ শেষ হয়নি। প্রধান শিক্ষকরা বলছেন, ঠিকাদারদের গাফিলতির কারণে শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে ক্লাস করতে হচ্ছে।

নান্দাইল উপজেলা প্রকৌশলী গোলাম কিবরিয়া পিয়াল বলেন, ঠিকাদারদের বারবার তাগাদা দেয়া হলেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। অর্থবছরের মধ্যে কাজ শেষ না হলে নিয়ম অনুযায়ী বরাদ্দের অর্থ ফেরত চলে যাবে। কোটি কোটি টাকার সরকারি অর্থ ঝুঁকিতে পড়লেও কার্যকর জবাবদিহি না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।