চাকরির নামে রাশিয়ায় নেয়ার পর যুদ্ধক্ষেত্রে : ৩ এজেন্সির লাইসেন্স স্থগি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশী যুবকদের রাশিয়ায় পাঠানোর পর ইউক্রেন যুদ্ধে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। এসব এজেন্সির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ারও প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক।

গতকাল সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান।

নুরুল হক বলেন, রাশিয়াতে ৩০ জন কর্মীকে ভালো কাজের কথা বলে নিয়ে যুদ্ধে সম্পৃক্ত করা হয়েছে বলে তাদের পরিবার আমাদের জানিয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করেছি। বর্তমানে তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে জড়ানো অনেক বাংলাদেশী সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যাননি উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে কিছু কিছু বাংলাদেশী জড়াচ্ছেন ঠিকই, তবে তারা সরাসরি বাংলাদেশ থেকে যাননি। প্রকৃত অর্থে তারা তৃতীয় কোনো দেশ থেকে সেখানে যাচ্ছেন। সে ক্ষেত্রে (মন্ত্রণালয়ের) কিছু করার থাকে না।’

এ দিকে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার আবারো বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকার জোরদার কাজ করছে। সৌদি আরবের পর মালয়েশিয়াই বাংলাদেশী কর্মীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম শ্রমবাজার। এই বছরের ৮ থেকে ১১ এপ্রিল প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও মন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেন। আশা করা যাচ্ছে, অতি দ্রুত দেশটিতে বাংলাদেশী কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে।

সংসদে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত বিভিন্ন দেশে ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৫ জন বাংলাদেশীর কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী অর্থবছরে প্রায় ১৪ লাখ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মালয়েশিয়া, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের মতো বন্ধ বা সঙ্কুচিত শ্রমবাজারগুলো আবার চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে নিবিড় কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ থেকে কর্মী পাঠানোর বিষয়ে এরইমধ্যে ১৮টি দেশের সাথে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।’

নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বিদেশে নামমাত্র কোম্পানি খুলে ভুয়া চাহিদাপত্রের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়ার প্রবণতা বেড়েছে। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যে, কিছু বাংলাদেশী প্রবাসী সংশ্লিষ্ট দেশের মালিকপক্ষের সাথে যোগসাজশ করে নামেমাত্র কোম্পানি খুলে দেশ থেকে লোক নিয়ে যাচ্ছে। যেখানে ১০ জনকে কাজ দেয়ার সুযোগ রয়েছে, সেখানে নেয়া হচ্ছে ১০০ জন। বিদেশ থেকে পাঠানো চাহিদাপত্রগুলো সংশ্লিষ্ট দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাস যাচাই ও সত্যায়ন করেই পাঠায়। তবে এ ক্ষেত্রে আমাদের আরো কঠোর নজরদারি, মনিটরিং ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই প্রয়োজন।

বিদেশগামী দরিদ্র কর্মীদের জন্য বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হবে কি না- ময়মনসিংহ-৬ আসনের সংসদ সদস্য কামরুল হাসানের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৮ শতাংশ সুদে জামানতবিহীন তিন লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে। এই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে পাঁচ লাখ টাকা করার পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে বর্তমানে বিনা সুদে ঋণ চালুর কোনো সরকারি স্কিম বা পরিকল্পনা নেই।