ময়মনসিংহ অফিস
ময়মনসিংহে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর ও টায়ারে আগুন দিয়ে বিক্ষোভ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। গতকাল সোমবার সকাল ১০টার দিকে নগরীর শিববাড়ি রোড এলাকায় অবস্থিত পরিত্যক্ত এই কার্যালয়টিতে ভাঙচুর চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর থেকে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ ছিল। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি আবার সচল করার গুঞ্জন ওঠে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আজাদ জাহান শামীমের নেতৃতে কয়েকজন নেতাকর্মী কার্যালয়ের সামনে পতাকা উত্তোলন ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এই ঘটনার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে ১০-১২ জন নেতাকর্মী শ্রমিকসহ হাতুড়ি ও রড নিয়ে কার্যালয়ের সামনে আসেন। তারা ভবনের সামনের দেয়াল, প্রধান ফটক এবং দরজা-জানালা ভেঙে ফেলেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের সামনে টায়ারে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। এর আগে আল নূর মোহাম্মদ আয়াস আওয়ামী লীগের কার্যালয়গুলোকে ‘গণশৌচাগার’ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন।
ভাঙচুর চলাকালীন আল নূর মোহাম্মদ আয়াস সাংবাদিকদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। তারা হাজার হাজার ছাত্র-জনতা হত্যার সাথে জড়িত। শহীদের রক্তের ওপর দিয়ে কোনোভাবেই তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালাতে দেয়া হবে না। ২১ ফেব্রুয়ারি তারা এখানে কর্মসূচি পালন করলেও প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফ্যাসিবাদের দোসররা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তাই প্রতিবাদ হিসেবে আমরা এটি ভেঙে দিয়েছি।’
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ বিষয়ে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি অপরাধ করলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিচার হবে। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেয়ার অধিকার কারো নেই। ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।’



