বিনোদন প্রতিবেদক
২০২৬ সালের অস্কারে (৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডস) পাকিস্তানের অফিশিয়াল এন্ট্রি হিসেবে মনোনীত বুরুশাশকি ভাষার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হুন্দান অ্যান ইকো অব আ ডির্জ’ এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছে। সম্প্রতি ইসলামাবাদের এরিনা সিনেমায় ছবিটির এক বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যা হয়ে ওঠে গিলগিট-বালুচিস্তান সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক মিলনমেলা। আগা খান সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার বোর্ড এবং রকউড প্রোডাকশন্সের যৌথ ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বুরুশাশকি ভাষাভাষী প্রবীণ নাগরিকরা।
গিলগিট-বালুচিস্তানের দুর্গম আলতিত অঞ্চলের লোকগাথা অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমাটির প্রেক্ষাপট অত্যন্ত গভীর ও মর্মস্পর্শী। এটি মূলত একজন শিকারি এবং একটি বন্য প্রাণীর (মারখোর) ভাগ্য মিলে যাওয়ার এক প্রতীকী গল্প। ৩৫ বছর আগে পরিবারের জন্য শিকার করতে গিয়ে এক শিকারি যে পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, তা-ই বর্তমান প্রজন্মের এক দাদার বয়ানে উঠে এসেছে এই চলচ্চিত্রে। লোককাহিনী অনুসারে, শিকারি যখন একটি মা-মারখোরকে হত্যা করে বাড়ি ফেরেন, তখন দেখতে পান তার নিজের স্ত্রী ও নবজাতক সন্তানও মারা গেছে। এই ট্র্যাজেডি থেকেই সৃষ্টি হয় একটি বিলাপের গান বা ‘ডির্জ’ যা বংশপরম্পরায় বুরুশাশকি সমাজে প্রচলিত। পরিচালক কারামাত আলী ছবিটিকে কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়; বরং পরিবেশ সংরক্ষণ এবং হারানো ভাষা রক্ষার একটি প্রতিবাদ হিসেবে তুলে ধরেছেন। ইউনেস্কো কর্তৃক ‘বিপন্ন’ হিসেবে ঘোষিত বুরুশাশকি ভাষাকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করাই ছিল তার অন্যতম লক্ষ্য। প্রবীণ দর্শকরা যখন শৈশবে দাদী-নানীদের মুখে শোনা সেই রূপকথা ও ঘুমপাড়ানি গানগুলোকে রূপালি পর্দায় জীবন্ত হতে দেখেন, তখন প্রেক্ষাগৃহে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হয়। অনেক দর্শক জানান, নিজের মাতৃভাষায় এমন শৈল্পিক উপস্থাপন তাদের পরিচয় ও অস্তিত্বের সঙ্কট কাটিয়ে নতুন করে গর্বিত হতে শিখিয়েছে।
পরিচালক কারামাত আলী তার বক্তব্যে প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরাই এই সমৃদ্ধ মৌখিক ঐতিহ্যকে পরম মমতায় টিকিয়ে রেখেছেন। তাদের স্মৃতি ও প্রজ্ঞাই এই সিনেমার মূল ভিত্তি। কেবল বুরুশাশকি সম্প্রদায়ই নয়, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্কের এই সর্বজনীন বার্তা পৌঁছে গেছে ভিন্ন ভাষাভাষী দর্শকদের হৃদয়েও। পাকিস্তানের এই স্বাধীন চলচ্চিত্রটি বিশ্বমঞ্চে আদিবাসী সংস্কৃতির এক শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।



