প্রতীকী মূল্যে জলিল টেক্সটাইলের ৫৪.৯৯ একর জমি পাচ্ছে সেনাবাহিনী

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বাংলাদেশ টেক্সটাইলস মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) আওতাধীন ‘জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-কে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এটি সেনাবাহিনীকে প্রতীকী মূল্য দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম অঞ্চলে ‘বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি’ (বিওএফ) সম্প্রসারণে এই জমি ব্যবহার করা হবে। জলিল টেক্সটাইলস মিলসটি চট্টগ্রাম জেলার ভাটিয়ারিতে অবস্থিত।

গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সমরাস্ত্র কারখানা সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা ‘জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড’-কে প্রতীকী মূল্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। মিলটিতে জমির পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৯৯ একর। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাট এলাকায় ১৯৬১ সালে স্থাপন করা হয় ব্যক্তি মালিকানাধীন মেসার্স জলিল টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড। ১৯৭২ সালে রাষ্ট্রপতির আদেশে মিলটি জাতীয়করণ করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, ড. ইউনূসের বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছর ২৯ জুলাই মিলটি সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছিল। তবে মিলটি সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হলেও তা প্রতীকী মূল্যে হস্তান্তরে আপত্তি জানিয়েছিল উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি।

বৈঠক শেষে অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, চট্টগ্রামের জলিল মিলের জায়গাটি সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরের ব্যাপারে বৈঠকে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে আমরা প্রস্তাব দিয়েছি যে, প্রতীকী মূল্যে দেব না। এখন থেকে জমি কিনে নিতে হবে। যারাই নিতে চায় অর্থ দিয়ে নেবে।

জানা যায়, ওই সময় মূল্য সংশোধন করে ফের প্রস্তাব নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। সেনাবাহিনীর প্রস্তাব ছিল প্রায় ১৭ কোটি পাঁচ লাখ টাকা।

বৈঠকে অনুমোদন পাওয়ায় জলিল টেক্সটাইল মিলসের ৫৪.৯৯ একর জমি প্রতীকী মূল্যে বিওএফকে দেয়া হবে। প্রতীকী মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা অর্থ দেয়া হবে বিটিএমসিকে। বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার পক্ষ থেকে এ অর্থ দেয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর সেনা সদরের কিউএমজি শাখা বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি সম্প্রসারণের জন্য জলিল টেক্সটাইল মিলসটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠায়।

বিটিএমসির হিসাব অনুযায়ী, জলিল টেক্সটাইল মিলসের কাছে ইউটিলিটি বিলসহ অনেক টাকা পাওনা আছে। এসব পাওনা পরিশোধ ছাড়া সেনাবাহিনী যে উদ্দেশে মিল চাচ্ছে, সে কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া, হস্তান্তর চুক্তি অনুযায়ী সরকারি পাওনা এবং ২০২০-২১ সালের অডিট হিসাব অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করা প্রয়োজন।