কলাপাড়া (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বানাতিবাজার-ঢোস শাখা নদীটি দখল ও পলি ভরাটের কারণে অস্তিত্ব সঙ্কটে পড়েছে। লালুয়া ও বালিয়াতলী ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই শাখা নদীর দুই তীরেই চলছে দখল কার্যক্রম। নদীর মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ হওয়ায় পানিপ্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘ দিন ধরে প্রাকৃতিক পলি ভরাটে নদীর প্রশস্ততা কমে গেছে। অনেক জায়গায় বনাঞ্চল কেটে নদীর পাড় দখল করে চাষের জমি তৈরি করা হয়েছে। সম্প্রতি নদীর মাঝ বরাবর দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা তোলা হয়েছে, যা নদীটির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধা বাজারসংলগ্ন বালিয়াতলী অংশে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। এতে করে নদীটি দ্রুত মরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্ধারমানিক নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ঢোস ও বানাতিবাজার হয়ে রাবনাবাদ নদীতে মিলিত হওয়া এই শাখা নদী দিয়ে এখনো কার্গো ও মাছধরা ট্রলার চলাচল করে। দুর্যোগকালেও এটি ট্রলারগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থল।
স্থানীয় জেলে আব্দুল হাকিম বলেন, একসময় নদীটির প্রস্থ ছিল ২০০ থেকে ২৫০ ফুট। এখন তা কমে এক-তৃতীয়াংশে দাঁড়িয়েছে। ভাটার সময় অনেক স্থানে ট্রলার চলাচল করতে পারে না।
লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হোসেন তপন বিশ্বাস বলেন, নদীটি রক্ষায় দ্রুত পুনঃখননসহ কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন কাজ করছে।



