জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড

মোজাফফরকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সামরিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং সম্প্রতি গ্রেফতার হওয়া মেজর (অব:) মোজাফফর হোসেনকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সশস্ত্রবাহিনীর একটি সূত্র নয়া দিগন্তকে জানিয়েছে, গত ১৯ জুলাই রাতে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় সামরিক বিমানে করে তাকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে আনা হয়। মিলিটারি পুলিশ (এমপি) ও আর্মি সিকিউরিটি ইউনিটের (এএসইউ) তত্ত্বাবধানে স্থানান্তর সম্পন্ন হয়।

সূত্রটি জানায়, ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে তাকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। তবে এই জিজ্ঞাসাবাদ কেবল সেনাবাহিনী পরিচালনা করবে, নাকি ডিজিএফআই, এনএসআই, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) এবং অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ টাস্কফোর্স করবে- সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

এর আগে গত ১৬ জুলাই ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) বনানী ডিওএইচএস থেকে মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতার করে। পরে তাকে সামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হলে সামরিক বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে নেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, মোজাফফর হোসেনকে গ্রেফতারের পর জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ওই হত্যাকাণ্ডে তার ভূমিকা এবং দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে।

সূত্রের দাবি, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পরদিন তিনি ভারতে পালিয়ে যান। সেখানে বিভিন্ন স্থানে অবস্থানের পর ভুয়া পরিচয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ এবং পরে সেই পরিচয়ে পাসপোর্ট তৈরি করেন বলে ডিবি সূত্রের দাবি। একই সূত্রের ভাষ্য, বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান গোপন রাখার চেষ্টা করেন। তবে এসব তথ্যের সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেনি।

ডিবি সূত্র আরো দাবি করেছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং ১৯৯৮ সালে গোপনে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। দীর্ঘ সময় বিভিন্ন জেলায় ভাড়াবাসায় অবস্থান করার পর কয়েক বছর ধরে বনানী ডিওএইচএসে শ্বশুরের একটি ফ্ল্যাটে স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে থাকছিলেন। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর তথ্যমতে, দীর্ঘ সময় পরিচয় গোপন রাখায় তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই এবং মামলার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার কাজ চলছে। তবে তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ বিষয়ে সেনাবাহিনী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। মোজাফফরের গ্রেফতারে বহু অমীমাংসিত অধ্যায়ের জট খোলার আশা করা হচ্ছে।