ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের প্রথম টেস্টের আগে ডারউইনের ২২ গজ নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা রকম কৌতূহল! আগামীকাল বৃহস্পতিবার মারারা ওভালে প্রথমবারের মতো টেস্ট ম্যাচ আয়োজন করতে যাচ্ছে ডারউইন। নতুন এই টেস্ট ভেনুকে ঘিরে দর্শকদের যেমন আগ্রহ, মাঠকর্মী ও কিউরেটরদের উচ্ছ্বাসও তেমন। তবে ম্যাচের আগে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, কেমন হবে এখানকার উইকেট?
অস্ট্রেলিয়া দলের কাছেও যার পুরোপুরি উত্তর নেই। শেষ পর্যন্ত সেই রহস্যের কিছুটা পর্দা তুলেছেন মারারা ওভালের কিউরেটর জ্যাক পাভলিচ। তার কথায়, বাংলাদেশকে শুরুতেই খুব বেশি স্বস্তি দিতে চান না এমন কোনো পিচও নয়, আবার হুট করে চরিত্র বদলে ফেলা উইকেটও নয়। বরং তার লক্ষ্য একটি ধারাবাহিক, ভালো ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা।
পাভলিচের কথায়, ‘প্রতিপক্ষ বাংলাদেশও বেশ অভিজ্ঞ দল। তাই আমরা কনসিস্টেন্ট পিচ চাই যেটা খেলার জন্য ভালো হবে। আমরা সব কিছু নিয়ে গর্বিত। ছেলেরা এখানে আছে কয়েকদিন হলো। ভেনুটারও ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। এখানে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটের ভালো সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। আমাদের জন্য অনেক গৌরবের ব্যাপার।’
‘কনসিস্টেন্ট’ উইকেটের অর্থ যে বোলারদের জন্য পুরোপুরি নিরাশার নয়, সেটিও পরিষ্কার করেছেন পাভলিচ। ম্যাচ যত গড়াবে, উইকেটের চরিত্র ততটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে বোলাররা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। কিউরেটর আরো বলছিলেন, ‘চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে উইকেট চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠতেই পারে। তবে আমরা কনসিস্টেন্ট পিচ তৈরির চেষ্টাই করেছি। পিচে অ্যাডজাস্টমেন্ট জরুরি। টিপিক্যাল অস্ট্রেলিয়ান পিচ বলতে যা বোঝায়, আসলে দেশের সব পিচ তেমনই আচরণ করে। তাই এখানেও ব্যতিক্রম হবে না। আমি আশা করছি কনসিস্টেন্ট গুড ব্যাটিং উইকেট থাকবে। বোলাররা পরিশ্রমের সুফল পাবে।’
ম্যাচের শুরুতে ব্যাটারদের জন্য ভালো সুযোগ থাকলেও সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলাতে পারে। পাভলিচের বক্তব্য অনুযায়ী, এখানে বোলারদের জন্য মূল অস্ত্র হবে শৃঙ্খলা ও ধৈর্য। বাংলাদেশের ব্যাটারদেরও তাই শুধু প্রথম দিনের উইকেট দেখলে হবে না, পাঁচ দিনের ম্যাচের সম্ভাব্য পরিবর্তনের কথাও মাথায় রাখতে হবে। আর টেস্ট বলতেই তো ধৈর্য।
এই উইকেট তৈরিকে ঘিরে কিউরেটরের ওপর বাড়তি চাপ ছিল কি না- সেটিও ছিল আলোচনার বিষয়। ডারউইনের প্রথম টেস্ট বলে প্রত্যাশার চাপ থাকাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পাভলিচ জানিয়েছেন, তিনি কোনো চাপ অনুভব করেননি, ‘যেভাবে করলে ভালো হবে, সেভাবেই আমি নিজের সেরাটা দিয়েছি। এখানে খেলা হচ্ছে, এটা বাস্তবায়ন করার পেছনে অনেক উচ্ছ্বাস-উল্লাস জড়িত। যা নিয়ন্ত্রণে নেই তা নিয়ে তো চাপ অনুভব করে লাভ নেই। আমরা আমাদের সম্ভাব্য সেরা পিচই বানিয়েছি।’
ডারউইনের জন্য এই টেস্ট শুধু একটি ম্যাচ নয়, নিজেদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানচিত্রে আরো শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগও। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, প্রথম টেস্টটি সফলভাবে আয়োজন করতে পারলে ভবিষ্যতেও বড় ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ বাড়বে। পাভলিচও শুনালেন প্রত্যাশার কথা, ‘সুযোগ-সুবিধার দিক থেকে আমরা এমন একটা পরিবেশ গড়ে তুলেছি, যে সবাই এখানে কাজ করতে মুখিয়ে থাকে। তাই অবশ্যই আপনি এখানে হাই লেভেল ক্রিকেট আয়োজন করতে চাইবেন, যা আমরা ধারাবাহিকভাবেই করতে চাই।’
বৃহস্পতিবার টসের পরই হয়তো ডারউইনের ২২ গজের আসল চরিত্রটা প্রকাশ পেতে শুরু করবে। আপাতত কিউরেটরের বার্তা পরিষ্কার-শুরুতে ব্যাটারদের জন্য সুযোগ থাকবে, তবে ম্যাচ যত এগোবে, বোলারদের পরিশ্রমও ততটাই পুরস্কৃত হতে পারে। বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু অস্ট্রেলিয়া নয়, অপেক্ষা করছে ডারউইনের অচেনা উইকেটও।



