নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে টানা পঞ্চমদিনের মতো যুক্তিতর্ক উপস্থাপন সম্পন্ন করেছে রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউশন।
গতকাল মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ শুনানিকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও ওবায়দুল কাদেরের একটি চাঞ্চল্যকর ফোনালাপ অডিও রেকর্ড হিসেবে বাজিয়ে শোনানো হয়।
বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো: মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে উপস্থাপন করা ওই ফোনালাপে জুলাই আন্দোলনের সময় তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে কিভাবে সহিংসতা ও পাল্টা আক্রমণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল, তার স্পষ্ট চিত্র ফুটে ওঠে।
অডিওতে প্রথমে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদের সাথে শেখ হাসিনার কথা বলতে শোনা যায় :
হাছান মাহমুদ : ‘জি আপা, আপনি কাদের ভাইকে যেভাবে নির্দেশ দিয়েছিলেন...’
শেখ হাসিনা : ‘আমাদের লোক থাকতে বলো। ওরা আগুন দিয়ে পুড়াবে তো, তাদের বাড়ি-গাড়ি আছে... তোরাও পুড়াবি আয়, আমরাও পুড়াব।’
হাছান মাহমুদ : ‘জি জি রাইট, এটাই টিট ফর ট্যাট। জি আপা।’
পরবর্তীতে হাছান মাহমুদ ফোনটি ওবায়দুল কাদেরের হাতে দিলে শেখ হাসিনা সরাসরি তাকে উদ্দেশ করে নির্দেশমূলক বক্তব্য দেন:
শেখ হাসিনা : ‘যেখানে যেখানে গ্যাদারিং আছে, সব জায়গায় র্যাব। আর ওরা আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘর আছে না, এখন আর বসে থাকার সময় নেই। আমাদেরও বাড়িঘরে আগুন দিচ্ছে, ওদের বাড়িঘরে আগুন পাবলিক দেবে। ওদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কী কী আছে খুঁজে বের করো। আজকে তাদের একটাই কাজ, সব জায়গায় বসে থাকবে আর খালি আগুন দেবে।’
ওবায়দুল কাদের : ‘সেটাই, পুলিশ কমিশনার সে কথাই বললো। জি, আমাদের তো ঠেকাতে হবে।’
মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্য অভিযুক্তরা হলেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, ফোনালাপটির অডিও রেকর্ড এবং এর প্রতিলিপি প্রমাণ হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়েছে, যা আসামিদের প্রত্যক্ষ ইন্ধন ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অকাট্য প্রামাণিক দলিল হিসেবে কাজ করবে। যুক্তিতর্কের পরবর্তী শুনানির জন্য ট্রাইব্যুনাল দিন ধার্য করেছেন।



