সংসদ প্রতিবেদক
গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে বাংলাদেশের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়ন (আইপিইউ)-এর সেক্রেটারি জেনারেল অ্যান্ডা ফিলিপ। তিনি বলেছেন, সংসদকে কার্যকর, শক্তিশালী ও জনগণের আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে গণতান্ত্রিক সংস্কার অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। একই সাথে নারী ও তরুণ সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে নিয়মিত সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
গতকাল সোমবার বাংলাদেশ জাতীয় সংসদে স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা, নারী ও তরুণ সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবের সাথে পৃথক বৈঠক ও মতবিনিময়ে এ কথা বলেন আইপিইউ মহাসচিব। পরে তিনি ঢাকার শেরে বাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন।
‘সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’ : নারী ও তরুণ সংসদ সদস্যদের সাথে মতবিনিময় সভায় অ্যান্ডা ফিলিপ বলেন, গণতন্ত্র, মানবাধিকার, অন্তর্ভুক্তিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা এবং শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনে সংসদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
গণ-অভ্যুত্থানের সময় তরুণদের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সত্য ও ন্যায়বিচারের পাশাপাশি পুনর্মিলন ও ঐক্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকায় নেলসন ম্যান্ডেলার নেতৃত্বে ‘রেইনবো নেশন’ গড়ে তোলার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
নারীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে আইপিইউ মহাসচিব বলেন, নেতিবাচক সামাজিক রীতি, কুসংস্কার ও অনলাইন বিদ্বেষ মোকাবেলায় আইপিইউ কার্যকর বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে। নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে সংহতি বাড়ানোর পাশাপাশি আইপিইউর নারী ফোরাম, জাতিসঙ্ঘবিষয়ক স্থায়ী কমিটি ও অন্যান্য কর্মসূচিতে বাংলাদেশের নারী এমপিদের সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল এবং চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বক্তব্য রাখেন।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে অ্যান্ডা ফিলিপ : দিনের কর্মসূচির একপর্যায়ে শেরে বাংলা নগরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেন অ্যান্ডা ফিলিপ ও তার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদল।
জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি ঘুরে দেখার সময় তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিভিন্ন পর্যায়ের আলোকচিত্র, দলিল-দস্তাবেজ, স্মৃতিচিহ্ন, তথ্যচিত্র ও অন্যান্য ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যবেক্ষণ করেন।
এ সময় জাদুঘরের কর্মকর্তারা ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে গুম, খুন, রাজনৈতিক নিপীড়ন ও বিরোধী মত দমনের অভিযোগ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান-২০২৪-এর পটভূমি ও ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন। পরিদর্শন শেষে অ্যান্ডা ফিলিপ জাদুঘরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
সংসদ সচিবের সাথে বৈঠক : সংসদ সচিব ব্যারিস্টার মো: গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়ার সাথে বৈঠকে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী, কমিটি ব্যবস্থা ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। অ্যান্ডা ফিলিপ এসডিজি বাস্তবায়নে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষ, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কার্যকর প্রয়োগে আইপিইউর নতুন কর্ম-কৌশল সম্পর্কে অবহিত করেন। তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর আসন্ন সম্মেলনে বাংলাদেশের সংসদীয় প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অনুরোধও জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন চিফ হুইপ : চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, গণতন্ত্র পুনর্গঠনে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা প্রয়োজন। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে আন্তর্জাতিক সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তরুণদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরী, সানসিলা জেবরিন, মানসুরা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।



