নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কাপ্তাই লেক থেকে এক বিএনপি নেতা ও কিশোরগঞ্জের নিকলীতে এক স্কুলছাত্রসহ চার জেলায় ৪ জনের ভাসমান লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অন্য দিকে সাভারে চুরির অপবাদে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রাঙ্গুনিয়া-কাপ্তাই (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, কাপ্তাই লেক থেকে এক বিএনপি নেতার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের নাম মোহাম্মদ মাসুদ (৫০)। তিনি কাপ্তাই ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কাপ্তাই হ্রদের গর্জনটিলা এলাকায় ভাসমান অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, উপজেলার কাপ্তাই ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ডের শিল্প এলাকার বাসিন্দা মাসুদ ব্যবসায়িক কাজে গত শনিবার বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়া বাজারে যান। সেখান থেকে বিকালে ফেরার পথে অসাবধানতা বসত কাপ্তাই হ্রদের পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে কাপ্তাই নৌবাহিনীর আট সদস্যের ডুবুরির দল ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তার সন্ধান চালিয়ে ব্যর্থ হয়।
কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, নিখোঁজের তিনদিন পর কাপ্তাই লেকে ভাসমান অবস্থায় লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিকলী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর উপজেলা নিকলীর সিংপুর ইউনিয়নের সিংপুর বাজার ও ইসলামপুরের মাঝের খাল থেকে ভাসমান অবস্থায় স্কুলছাত্র তাওহীদ (১৪)-এর লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী।
জানা গেছে গত সোমবার বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। মা-বাবা আত্মীয়স্বজনসহ সবাই সম্ভাব্য সব স্থানে খুঁজেছেন কিন্তু তাওহীদকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরদিন মঙ্গলবার পুনরায় খোঁজা শুরু করলে স্থানীয় এলাকাবাসী ইসলামপুর খালে একটি লাশ ভাসতে দেখতে পায়। সাথে সাথে স্থানীয় এলাকাবাসী নৌকা নিয়ে ভাসমান লাশটি উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত লাশটি তাওহীদের; এটা তার মা-বাবা নিশ্চিত করে।
নিহত স্কুলছাত্র তাওহীদ পূর্ব টেঙ্গুরিয়া গ্রামের মোহাম্মদ গোলজার হোসেনের ছেলে। সে সিংপুর আফিল উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র ছিল।
নিকলী থানার ওসি মাহবুবুর রহমান জানান লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে। স্বজনরা চাইলে ময়নাতদন্ত করানো হবে।
মুকসুদপুর (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে রিয়ান মোল্লা (১৩) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুইজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার ভোর রাত ৩টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামের আওলাদ মোল্লার পরিত্যক্ত পুকুর থেকে ওই কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রিয়ান মোল্লা মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের রিপন মোল্লার ছেলে।
আটকরা হলেন, একই গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে আরিফ মিয়া (২০) ও রবিউল শেখের ছেলে মুরছালিন শেখ (১৬)।
ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, গত রবিবার রিয়ান তার দুই সঙ্গী আরিফ ও মুরছালিনকে নিয়ে আওলাদ মোল্লার বাগান থেকে ডাব পাড়তে যায়। পরে রিয়ান গাছে ওঠে ডাব পাড়তে গেলে গাছ থেকে পরিত্যক্ত পুকুরে পড়ে যায়। এ সময় দুই সঙ্গী আরিফ ও মুরছালিন পুকুরে খোঁজাখুঁজি করে রিয়ানকে না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেলেও কাউকে কিছু জানায়নি।
কিন্তু রিয়ান আর বাড়ি না ফিরে আসলে পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আরিফ ও মুরছালিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ডাব চুরি ও পুকুরে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার ভোর রাতে আওলাদ মোল্লার বাগানের মধ্যে পরিত্যক্ত পুকুরে খোঁজ করে রিয়ানের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য লাশ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
তিনি আরো বলেন, এ ঘটনায় স্থানীয়রা আরিফ মিয়া ও মুরছালিন শেখকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
দেওয়ানগঞ্জ (জামালপুর) সংবাদদাতা জানান, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে জিঞ্জিরাম নদী থেকে গতকাল ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে লাশ কেউ শনাক্ত করতে পারেনি। এলাকাবাসী জানান, মঙ্গলবার সকালে নদীতে কী জানি ভেসে যাচ্ছে বলে দেখা গেলে উৎসুক হয়ে পড়ে মানুষ। পরে ভেলা ও নৌকায় কাছে গিয়ে দেখা যায় এক অজ্ঞাত মধ্য বয়সী পুরুষ মানুষের লাশ ভেসে যাচ্ছে। এ খবর দেয়া হয় স্থানীয় চর আমখাওয়া ইউনিয়নের সানন্দবাড়ি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে। পরে তারা তারা নদী থেকে লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।
সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা জানান, সাভারে অটোরিকশা চুরির অপবাদ দিয়ে পৌর এলাকার উলাইলে এক যুবককে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়েছে। নিহত যুবকের নাম আবুল খায়ের পাটওয়ারী (২৭)।
তিনি চাঁদপুর জেলার থানার কল্যাণপুর ইউনিয়নের দাসাদী গ্রামের লোকমান পাটওয়ারীর ছেলে। এ ঘটনায় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান (৩৫)-কে আটক করা হয়েছে। সাভার মডেল থানা ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (এসআই) মো: রফিকুল ইসলাম মঙ্গলবার জানান, রাত ৩টার সময় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের ছোট ভাই ও মামলার বাদি শাহ পরান পাটওয়ারী জানান, আবুল খায়ের মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। গত রোববার ভোরে চাঁদপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে আমরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করতে থাকি। গত সোমবার রাতে সাভার থানা থেকে ফোন দিয়ে আমাদের জানানো হয়, তার লাশ হাসপাতাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আমরা থানায় এসে আমার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করি।
তিনি আরো জানান, অটোরিকশাচালক তার ছোট ছেলেকে সোমবার দুপুরে অটোরিকশা পাহারায় রেখে বাসায় খাবার খেতে যান। ওই সময় তার ভাই আবুল খায়ের বাচ্চাটিকে বলেন, ‘দুই দিন ধরে ভাত খাইনি। ভাত নিয়ে আসো।’ বাচ্চাটি বাসায় গিয়ে তার বাবাকে বিষয়টি জানায়। পরে তার বাবা রিকশার কাছে এসে দেখেন, আবুল খায়ের রিকশার হ্যান্ডেল ধরে বসে রয়েছেন।
তখন গ্যারেজ মালিক নুরুজ্জামান তাকে অটোরিকশা চোর অপবাদ দিয়ে পিটুনি দিলে মুহূর্তেই লোকজন জড়ো হতে থাকেন এবং গণপিটুনিতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়।



