নবী করিম সা:-এর ইন্তেকালের মাত্র ৫০ বছরের ব্যবধানে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা যখন সরল পথ থেকে বিচ্যুত হচ্ছিল, এজিদের মতো চরিত্রহীন ব্যক্তি খেলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থার কর্ণধার হয়ে বসছিল তখন রাসূলের নাতি হয়ে ইমাম হোসাইনের পক্ষে নীরব ভূমিকা পালন করা সম্ভব হয়নি।
তিনি রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ইসলাম থেকে পৃথক করার ভবিষ্যৎ মারাত্মক পরিণতির কথা চিন্তা করে প্রতিবাদ করেছেন, এজিদের হাতে বায়আত করেননি; শেষ পর্যন্ত সপরিবারে কারবালা প্রান্তরে এক অসম যুদ্ধে নির্মম নিষ্ঠুর পন্থায় শাহাদতবরণ করেন।
ইমাম হোসাইনের এই আত্মত্যাগ, কারবালার বিয়োগান্ত এই ঘটনা সেদিন ইসলামের পুনরুজ্জীবন এনেছিল এবং এই চেতনা যুুগে যুগে ইসলামের সত্যিকার মুসলমানদের সামনে ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য চিরন্তন প্রেরণা ও আলোক বর্তিকা হয়ে রয়েছে। বাংলাদেশের আগামী প্রজন্মকে বিচ্যুতির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক এবং আধুনিক সাইন্স ও টেকনোলজিতে প্রশিক্ষিত হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
১০ মহররম আশুরাকে সামনে রেখে ঢাকা ফার্মগেটের বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রে গতকাল সেমিনারের ‘কারবালার শিক্ষা : মুসলিম উম্মাহর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সেমিনারে আলোচকরা এ কথা বলেন। মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকার প্রিন্সিপাল প্রফেসর মওলানা মুহাম্মদ উবায়দুল হকের সভাপতিত্বে ও বায়তুশ শরফ ইসলামী গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদীর সঞ্চালনায় এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বায়তুশ শরফের পীর শায়খ আবদুল হাই নদভী।
প্রবন্ধ পাঠ করেন দাউদকান্দি জুরানপুর ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম আবদুল হামিদ।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের সাবেক এমডি ইতিহাস গবেষক আবদুল মানড়বান, আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মালেক মোল্লা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো: ইব্রাহীম খলিল, মহাখালী হোসাইনিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, ঢাকা বায়তুশ শরফের খতিব মওলানা জাফর আহমদ এশিয়ান ইউনিভার্সিটির ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ এনামুল হক আজাদ ও মদীনাতুল উলুম কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মওলানা মুজির উদ্দীন প্রমুখ। বিজ্ঞপ্তি।



