ক্রীড়া ডেস্ক
সান ফ্রান্সিসকোতে গতকাল তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের বয়স যখন ২ মিনিট তখনই প্যারাগুয়ের হয়ে জালের দেখা পান মাতিয়াস গালারজা। রোমাঞ্চে ঠাসা দুই দলের লড়াইয়ে এটিই একমাত্র গোল। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ১০ জনের দলে পরিণত হয় ল্যাটিন আমেরিকার দেশটি। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না দক্ষিণ পূর্ব ইউরোপের দেশটি। তবে আক্রমণের ঝড় তুলে অসংখ্য সুযোগ হাতছাড়া করে গোল না পেয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে বিশ্বকাপ বিদায় নিশ্চিত তুরস্কের।
যুক্তরাষ্ট্রে গতকাল সকালে জমজমাট লড়াইয়ের ম্যাচে প্যারাগুয়ের জাল লক্ষ্য করে ৩৩টি শট নিয়েও লক্ষ্য পূরণ হলো না তুরস্কের। পুরো ম্যাচের বল পজিশনে আধিপত্য করে হাকান সুকুরের দেশটি। আগামী শুক্রবার তারা নিজেদের শেষ ম্যাচে খেলবে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। একই সময়ে দ্বিতীয় স্থানের জন্য লড়াইয়ে থাকা অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে প্যারাগুয়ে।
তুরস্কের বিপক্ষে এ দিন প্রথমে ভালো সুযোগেই এগিয়ে যায় প্যারাগুয়ে। ডি বক্সের বাইরে বল পেয়ে গতিময় শটে জাল খুঁজে নেন গালারসা। ৬৫ সেকেন্ডে করা গোলটি এবারের আসরে দ্রুততম। আর বিশ্বকাপে ল্যাটিন আমেরিকার দেশটির এটি দ্বিতীয় দ্রুততম গোল। ১৯৯৮ সালে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৫২ সেকেন্ডে গোল করে রেকর্ড এখনো দখলে রেখেছেন সেলসো আয়ালা। শুরুর গোলের পর দারুণ জমে ওঠে লড়াই। গোলের জন্য মরিয়া তুরস্ককে সে সময় সুযোগ সৃষ্টি করতে দিচ্ছিল না প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৩৫ মিনিটে হাকান কালহানোলুর ফ্রি কিকে মের্ট মুলদুরের হেড ক্রসবারে লেগে পোস্ট ছুঁয়ে মাঠে ফেরে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন প্যারাগুয়ের মিগেল আলমিরন। হাতে দিয়ে মুখ ঢেকে মুলদুরকে কিছু একটা বলেন তিনি। মনিটরে ঘটনা দেখে আলিমরনকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফিফার নতুন নিয়মে বিশ্বকাপে শাস্তি পাওয়া প্রথম খেলোয়াড় আটলান্টা ইউনাইটেডের এই মিডফিল্ডার।
একজন বেশি থাকার সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে প্যারাগুয়েকে বেশ চেপে ধরে তুরস্ক। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে ইউরোপের দেশটি। সুযোগও আসতে থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছিল না তারা। ৫৮ মিনিটে একটুর জন্য শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি কালহানোলু। ৬১ মিনিটে দারুণ গতিতে কাট করে ভেতরে ঢুকে পায়ের কারিকুরিতে চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করলেও শট লক্ষেথ্যই রাখতে পারেননি প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড জুলিও এন্সিসকো। পরের মিনিটে আর্দা গুলারের চমৎকার ক্রসে সুযোগ পান দেনিস গুল। কিন্তু বদলি নামা তুরস্কের তরুণ ফরোয়ার্ডের হেডে ছিল না জোর। শেষের দিকে যেন প্রতি মিনিটেই সুযোগ সৃষ্টি করছিল তুরস্ক। কিন্তু তাতেও লক্ষ্য পূরণ হলো না তাদের। চোখে জল ও একরাশ হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়ে তুরস্ক।



