ফিরেছে প্রাণ-প্রকৃতি

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আগামীকাল খুলছে সুন্দরবন

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য আবার খুলে দেয়া হচ্ছে সুন্দরবন। টানা তিন মাসের প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়া হচ্ছে আজ। মানুষের আনাগোনা বন্ধ থাকায় এবং বন বিভাগের কঠোর নজরদারির কারণে এই সময়ে প্রজনন সুরক্ষা ও প্রাণ-প্রকৃতিতে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

বন বিভাগ জানায়, প্রজনন মরসুমে প্রবেশাধিকার বন্ধ থাকায় বনের নদী-খালে মাছের উপস্থিতি কয়েক গুণ বেড়েছে। একই সাথে সুন্দরী, গেওয়া, কেওড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা ঘন হওয়ার পাশাপাশি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, হরিণ, বানর, কুমির ও বন্য শূকরের মতো প্রাণীদের বিচরণ বেড়েছে। প্রজনন নির্বিঘœ হওয়ায় জলজ ও বনজ প্রাণীর বংশবৃদ্ধিও সাফল্য পেয়েছে।

অবরোধ চলাকালে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। সাধারণ সময়ে মাসে সাত দিন ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ চালানো হলেও গত তিন মাসে তা বাড়িয়ে ২০ দিন করা হয়। জোয়ার-ভাটার সময় হিসাব করে ২৪ ঘণ্টাই সতর্ক পাহারায় ছিলেন বনকর্মীরা।

পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, নিয়মিত টহল বাড়ানোর ফলে বন অপরাধ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। খালের পাড়ে নিয়মিত বাঘের আনাগোনা এবং বনের ভেতরে হরিণের পালের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ছে।

এ বিষয়ে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো: রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, সুন্দরবনের স্বাভাবিক পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নিশ্চিত করতেই প্রতি বছর নির্দিষ্ট সময়ে এই বিধিনিষেধ জারি করা হয়। নজরদারি বাড়ানোর সুফল এবারো পাওয়া গেছে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ উদ্যোগ সামনেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের পূর্ব ও পশ্চিম বিভাগের ১৪টি পর্যটনকেন্দ্রে প্রতি বছর কয়েক লাখ পর্যটক যান। পাশাপাশি নির্ধারিত ফি দিয়ে অন্তত ৫০ হাজার বনজীবী মাছ, গোলপাতা ও মধু সংগ্রহ করেন। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর নিয়মিতভাবে তিন মাসের এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করে আসছে বন বিভাগ।