ক্রীড়া প্রতিবেদক
বাংলাদেশ হকি ফেডারেশনে (বাহফে) বিতর্ক যেন নতুন কিছু নয়। মাঠের সাফল্যের চেয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তই অনেক সময় বেশি আলোচনায় আসে। এবারো তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি আদেশে (জিও) একজন কর্মকর্তাকে ওমানে অনুষ্ঠিত নারী এএইচএফ কাপে দলের সহকারী ম্যানেজার হিসেবে পাঠানো হলেও আন্তর্জাতিক হকি ফেডারেশনের (এফআইএইচ) অফিসিয়াল নথিতে তিনি পরিচিত হয়েছেন সহকারী কোচ হিসেবে। এখানেই জন্ম নিয়েছে নতুন বিতর্ক।
বিষয়টি সামনে আসার পর বাহফের ব্যাখ্যাও কম বিস্ময়ের নয়। ফেডারেশনের দাবি, তাদের প থেকে কোনো ভুল হয়নি; বরং এফআইএইচই ভুল করে ওই কর্মকর্তাকে সহকারী কোচ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, বিশ্বের হকির সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা কি এত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে এমন মৌলিক ভুল করতে পারে? আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়া প্রতিটি দলের কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরিচয় সাধারণত সংশ্লিষ্ট জাতীয় ফেডারেশনই পাঠিয়ে থাকে। সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করেই এফআইএইচ তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে এমন ভুলের দায় পুরোপুরি আন্তর্জাতিক সংস্থার ওপর চাপিয়ে দেয়া কতটা গ্রহণযোগ্য, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
আরো বড় প্রশ্ন অন্য জায়গায়। দেশে স্বীকৃত ও অভিজ্ঞ কোচের অভাব নেই। জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে বিভিন্ন কাবে বহু কোচ বছরের পর বছর কাজ করছেন। তাদের কাউকে দায়িত্ব না দিয়ে যদি প্রশাসনিক পরিচয়ে যাওয়া একজন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক আসরে কোচের ভূমিকায় থাকেন, তাহলে প্রকৃত কোচদের প্রতি তা কি অবিচার নয়? এতে কি যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের চেয়ে ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না?
বাংলাদেশ হকিতে এমন অভিযোগ অবশ্য নতুন নয়। অতীতেও নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে বিদেশ সফরে নেয়া, দায়িত্ব বদল কিংবা প্রশাসনিক কৌশলে বিশেষ সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে একাধিকবার। যোগ্য ও যথার্থ ব্যক্তিকে রেখে নিজেদের পছন্দসই ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানো বাহফের জন্য নতুন কোনো ঘটনা নয়। এসব ঘটনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাবের কথাও বারবার সামনে এসেছে। ফলে এবারের ঘটনাও অনেকের কাছে বিচ্ছিন্ন কোনো ভুল নয়, বরং দীর্ঘদিনের একটি সংস্কৃতিরই ধারাবাহিকতা।
একটি জাতীয় দলের সাথে বিদেশ সফর শুধু ভ্রমণের সুযোগ নয়; এটি দেশের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব। সেখানে কে কোন পদে যাবেন, তা নির্ধারণে নিয়ম, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যদি সত্যিই এফআইএইচের ভুল হয়ে থাকে, তাহলে বাহফের উচিত ছিল সাথে সাথে তা সংশোধনের উদ্যোগ নেয়া এবং সেই প্রক্রিয়ার প্রমাণ প্রকাশ করা। আর যদি তথ্য পাঠানোর েেত্রই গরমিল হয়ে থাকে, তবে তার দায়ও ফেডারেশনের এড়ানোর সুযোগ নেই।
বাংলাদেশ হকির উন্নয়নের স্বার্থেই এ ধরনের বিতর্কের অবসান প্রয়োজন। ব্যক্তিবিশেষকে সুবিধা দেয়ার সংস্কৃতি নয়, যোগ্যতা ও স্বচ্ছতাই হওয়া উচিত জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশন পরিচালনার মূলনীতি; অন্যথায় মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে প্রশাসনিক বিতর্কই বারবার শিরোনাম হয়ে থাকবে।



