চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের ৫ আগস্ট রাজধানীর মিরপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ঢাকা কমার্স কলেজের একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মমিন ইসলাম। ঘটনার দুই বছর পরও বিচারের অপেক্ষায় তার পরিবার।
ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার চরকলমি ইউনিয়নের ভক্তিরহাট মাদরাসা গ্রামের বাসিন্দা মমিন ইসলামের জন্ম ২০০৭ সালের ২১ মার্চ। তার বাবা মো: বাবুল পেশায় ট্রাক চালাক। মমিনের বেড়ে উঠা ঢাকায়। পরিবারের আশা ছিল, লেখাপড়া শেষ করে সে সংসারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেবেন।
পরিবারের ভাষ্য, ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর রাজধানীর মিরপুর-২ এলাকায় বিজয় মিছিলে অংশ নেন মমিন। মিছিল চলাকালে হঠাৎ গুলি চলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, কাছ থেকে ছোড়া একটি গুলি তার বুকে বিদ্ধ হলে তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর সে মারা যায়।
মমিনের বাবা মো: বাবুল জানান, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি ছেলের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পান। হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। সন্ধ্যায় হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর সংবাদ জানানো হয়। জানাজা শেষে লাশ ভোলার চরফ্যাশনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দুই বছর পেরিয়ে গেলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। মমিনের বাবা বলেন, দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। যারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে জড়িত এবং যারা এর নির্দেশদাতা, তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে। একই সাথে তিনি নিরপরাধ কাউকে এ ঘটনায় না জড়ানোর আহ্বান জানান।
প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে মমিন হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ার প্রত্যাশায় মমিনের পরিবার।



