ধুনটে জলমহালের ইজারা নিয়ে আইনি জটিলতা

২৫ জেলে পরিবারের আহাজারি

Printed Edition

ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা

বগুড়ার ধুনটে সোনাইডাঙ্গা জলমহালের ইজারা নিয়ে দীর্ঘ আইনি জটিলতায় পড়েছেন গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির ২৫ জন সদস্য ও তাদের পরিবার। জলমহাল থেকে তাদের মাছ আহরণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানববন্ধন করেছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, প্রায় ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করলেও আদালত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার জটিলতায় এখন তারা চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে সোনাইডাঙ্গা জলাশয়ের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত ২৫টি জেলে পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ১৯ একর ৪০ শতক আয়তনের সোনাইডাঙ্গা জলমহাল বাংলা ১৪৩৩-১৪৩৫ সনের জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির নামে এক লাখ ২০ হাজার ৯০৭ টাকায় ইজারা নেয়া হয়। সমিতির সভাপতি অমূল্য চন্দ্র হাওয়ালদার জানান, সরকারি ইজারা মূল্য পরিশোধের পাশাপাশি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে তারা মাছ চাষ শুরু করেন।

পরে অপর একটি সমিতি ইজারা বাতিল চেয়ে আপিল করলে বিষয়টি জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং শেষ পর্যন্ত হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

আদালতের আদেশের পর ধুনট উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ উল্লাহ নিজামী গত ১৩ জুলাই গোপালনগর পশ্চিমপাড়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির’ সভাপতি অমুল্য চন্দ্র হাওয়ালদার সোনাইডাঙ্গা জলাশয়টি পুনরায় ইজারা প্রদান ও নিরাপদে মাছ চাষ করার জন্য চিঠি দেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনন্দ হাওয়ালদার জানান, কিন্তু ইউএনও ওই চিঠি দেয়ার মাত্র চার দিন পর মৌখিকভাবে জলাশয় থেকে মাছ ধরতে নিষেধ করেন এবং মাছ ধরলে মামলায় ফাঁসানো জন্য নানা রকম হুমকি দেন। এতে সমিতির সদস্যরা কর্মহীন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ইউএনও আরিফ উল্লাহ নিজামী বলেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। হাইকোর্টের স্থিতাবস্থার আদেশ থাকায় প্রশাসনের পক্ষে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার সুযোগ নেই। আদালতের সর্বশেষ আদেশ অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।