ক্রীড়া ডেস্ক
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ব্যাটারদের একজন এবং অনেকের মতে দেশটির সর্বকালের সেরা ক্রিকেটার কেন উইলিয়ামসন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। ৩৫ বছর বয়সী সাবেক অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রায় ১৬ বছরের এক গৌরবময় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল। গতকাল দেয়া এক বিবৃতিতে উইলিয়ামসন জানান, অনেক দিন ধরেই তিনি বিষয়টি নিয়ে ভাবছিলেন এবং এখনই সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময় বলে মনে হয়েছে। চলমান ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট সিরিজেও তিনি আর অংশ নেবেন না।
২০১০ সালের নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে আহমেদাবাদ টেস্ট দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন উইলিয়ামসন। এরপর ধীরে ধীরে তিনি শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ব্যাটারে পরিণত হন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি মোট ৩৭৮টি ম্যাচ খেলেছেন এবং সব সংস্করণ মিলিয়ে করেছেন ১৯ হাজার ৩৪৬ রান। যা নিউজিল্যান্ডের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। তার ঝুলিতে রয়েছে ৪৮টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি এবং ৬টি ডাবল সেঞ্চুরি। শুধু টেস্ট ক্রিকেটেই খেলেছেন ১১০ ম্যাচ, করেছেন ৯ হাজার ৫১৫ রান, গড় ৫৪.০৬।
ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি নেতৃত্বেও রেখে গেছেন অসাধারণ ছাপ। ২০১৬ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে নিউজিল্যান্ড দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। তার অধীনে দল ২০২১ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে। ফাইনালে তারা ভারতকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে। সেই শিরোপাকে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় অর্জনগুলোর একটি হিসেবে ধরা হয়।
উইলিয়ামসনের নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ড আরো দু’টি বড় মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছায়। দলটি ধারাবাহিকভাবে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত হয় এবং সীমিত ওভারের বড় আসরগুলোতেও নিয়মিত শক্তিশালী উপস্থিতি দেখায়। তার শান্ত স্বভাব, ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা এবং চাপের মুহূর্তে সংযত আচরণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাও দীর্ঘ। তিনি ২০১৫ সালে আইসিসি বর্ষসেরা ক্রিকেটার নির্বাচিত হন এবং ২০১৯ সালে জেতেন আইসিসির বর্ষসেরা টেস্ট ক্রিকেটারের স্বীকৃতি। এ ছাড়া নিউজিল্যান্ডের মর্যাদাপূর্ণ স্যার রিচার্ড হ্যাডলি মেডেল জিতেছেন রেকর্ড চারবার।
বিদায়ী বার্তায় উইলিয়ামসন বলেন, তিনি সবসময় দেশের হয়ে সর্বোচ্চ দেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং শতভাগ দিতে না পারলে চালিয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। একইসাথে তিনি ভবিষ্যৎ নিউজিল্যান্ড দল নিয়ে আশাবাদও প্রকাশ করেছেন। ক্রিকেট বিশ্বে ‘ফ্যাব ফোর’-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে পরিচিত উইলিয়ামসনের বিদায় শুধু নিউজিল্যান্ড নয়, পুরো ক্রিকেট বিশ্বের জন্যই একটি যুগের সমাপ্তির প্রতীক। তার পরিসংখ্যান হয়তো ইতিহাসে থাকবে, তবে আরো বেশি মনে রাখা হবে তার ভদ্রতা, নেতৃত্ব এবং নীরব ধারাবাহিকতাকে।



