ফকল্যান্ড ফেরত চান আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক যুক্তরাষ্ট্র থেকে

খেলার মাঠে রাজনৈতিক ব্যানার টানানো যাবে না। বহনও করা নিষিদ্ধ। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে সেই পুরনো ইস্যু সামনে চলেই এলো। মিসরের সাথে ম্যাচ জয়ের পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা ড্রেসিংরুমে ফকল্যান্ড যুদ্ধে ইংল্যান্ডের কাছে হার এবং দ্বীপটি হারানোর স্মৃতি টেনে এনে গান গাইতে থাকে। কারণ তারা ধরেই নিয়ে ছল সেমিতে দেখা হবে ইংল্যান্ডের সাথে। পরশু ঠিকই তারা সেমিতে পেয়েছে ইংল্যান্ডকে। সেই ম্যাচে ইংলিশদের হারানোর পর আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা সেই ফকল্যান্ড নিজেদের দাবি করা মাঠে ব্যানার হাতে নিয়ে গান গাইতে থাকে। ব্যানারটি ছিল ডিফেন্ডার ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো, ডিফেন্ডার জিওভান্নি লো সেলসো এবং গোলরক্ষক হুয়ার মুসোর হাতে। সেখানে লেখা ‘লাস মালভিস, সন আর্জেন্টাইস। স্প্যানিশ ভাষায় বঙ্গানুবাদ হলো ‘ফকল্যান্ডটি আর্জেন্টিনার।’ উল্লেখ্য, আর্জেন্টাইনরা ফকলান্ডকে মালভিস বলে। এই ব্যানার প্রদর্শন এবং এর আগে ড্রেসিং রুমে এই ফকল্যান্ড নিয়ে গান গাওয়ার জন্য ফিফা শাস্তি দিতে পারে ল্যাটিন দেশটিকে। ২০১৪ সালে স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে আর্জেন্টিনার এক ফুটবলার এ ধরনের একটি ব্যানার প্রদর্শন করায় ফিফা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ২০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করেছিল।

আর্জেন্টিনার মূল ভূখণ্ড থেকে ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থান এই ফকল্যান্ডের। ১৮৪১ সালে ব্রিটিশরা এ দ্বীপটি দখল করে সেখানে ইংলিশদের বসবাস করানো শুরু করে। ১৯৮২ সালের এপ্রিলে আর্জেন্টিনা দ্বীপটি আবার দখল করলে ইংল্যান্ডের সাথে যুদ্ধ বেধে যায়। ৭৪ দিনের যুদ্ধ শেষে আর্জেন্টিনা পরাজয় মেনে নেয়। ব্রিটেন আবার এই দ্বীপ দখল করে। ওই যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ৬৫৫ জন সৈন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। তাই ইংল্যান্ডের সাথে খেলা পড়লেই আর্জেন্টাইনরা সেই কষ্ট, হতাশা ও ক্ষোভের স্মৃতি সামনে নিয়ে আসে।

এই সেমিফাইনালের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে এই ফকল্যান্ড ইস্যু নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর ছিল, ‘বাস্তবতা হলো এটি ফুটবল ম্যাচ। আমি ফুটবলের সাথে রাজনীতি যুক্ত করতে চাই না। তবে বহু বছর আগে যা ঘটেছে তাদের প্রতি আমার সম্মান আছে। সেটা আমাদের জন্য অনেক দুঃখ ও কষ্টের ইতিহাস।’

তবে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি ভিক্টোরিয়া ভিল্লারুয়েল ‘এক্স পোস্ট’ করেছেন, ‘এই শুধুই একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনারই। তারা আমারে ব্যানার স্টেডিয়ামে নিষিদ্ধ করতে চায়। অথচ তারা ভুলে গেছে আমরা রক্ত দিয়েছি। এখনো তাদের জন্য কাঁদি।’ এরপর লেখেন, ‘এই জয়টা তাদের জন্যই যারা যুদ্ধে প্রাণ দিয়েছেন।’