ক্রীড়া ডেস্ক
দুর্দান্ত ছন্দে থাকা জার্মান তারকা আলেকজান্ডার জাভেরেভ প্রথমবারের মতো উইম্বলডনের পুরুষ এককের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছেন। অন্য দিকে নারী এককে রোমাঞ্চকর দুই সেমিফাইনালের পর নিশ্চিত হয়েছে চেক প্রজাতন্ত্রের দুই খেলোয়াড়ের অল-চেক ফাইনাল। এতে করে নতুন রানী পাচ্ছে উইম্বলডন।
দ্বিতীয় বাছাই জাভেরেভ শুক্রবার সেন্টার কোর্টে অনুষ্ঠিত প্রথম পুরুষ একক সেমিফাইনালে ব্রিটিশ ওয়াইল্ডকার্ড আর্থার ফেরিকে ৭-৬ (৭-০), ৬-২, ৬-৪ গেমে পরাজিত করেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো উইম্বলডনের ফাইনালে ওঠেন তিনি। একই সাথে ১৯৯৫ সালে বরিস বেকারের পর প্রথম জার্মান পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে অল ইংল্যান্ড ক্লাবের ফাইনালে খেলার কৃতিত্বও অর্জন করেন।
ঘরের মাঠের দর্শকদের সমর্থনে ২৩ বছর বয়সী ফেরি শুরুতে জাভেরেভকে কঠিন চ্যালেঞ্জ জানান। প্রথম সেটে কেউ কাউকে ব্রেক করতে না পারায় সেটটি গড়ায় টাইব্রেকারে। তবে সেখানে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে টানা সাতটি পয়েন্ট জিতে ৭-০ ব্যবধানে টাইব্রেকার পর্ব নিজের করে নেন জাভেরেভ।
প্রথম সেট জয়ের পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন ফ্রেঞ্চ ওপেন চ্যাম্পিয়ন। শক্তিশালী সার্ভিস, নিখুঁত বেসলাইন শট এবং ধারাবাহিক আক্রমণাত্মক টেনিসে ফেরিকে আর ম্যাচে ফিরতে দেননি। দ্বিতীয় সেটে দু’টি সার্ভিস ব্রেক করে ৬-২ ব্যবধানে সহজ জয় তুলে নেন তিনি।
তৃতীয় সেটে ফেরি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও জাভেরেভের ধারাবাহিকতার সামনে তা টেকেনি। ৬-৪ গেমে সেট জিতে ম্যাচ শেষ করেন জার্মান তারকা।
র্যাংকিংয়ের ১১৪ নম্বরে থাকা ফেরি ওয়াইল্ডকার্ড হিসেবে সেমিফাইনালে উঠে টুর্নামেন্টের অন্যতম বড় চমক উপহার দিয়েছিলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ইতালির ফ্লাভিও কোবোলিকে হারিয়ে গত ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম ওয়াইল্ডকার্ড খেলোয়াড় হিসেবে উইম্বলডনের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেন। যদিও শেষ পর্যন্ত জার্মান তারকার অভিজ্ঞতার কাছে থেমে যায় তার রূপকথার যাত্রা।
আগামীকালের ফাইনালে জাভেরেভের প্রতিপক্ষ হবেন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার অথবা ২৪টি গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী নোভাক জোকোভিচের মধ্যকার সেমিফাইনাল বিজয়ী।
এ দিকে নারী এককের সেমিফাইনালে নাটকীয় জয় তুলে নিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম উইম্বলডন ফাইনালে উঠেছেন চেক তারকা ক্যারোলিনা মুচোভা। দশম বাছাই এই খেলোয়াড় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম বাছাই কোকো গফকে ৬-২, ১-৬, ৭-৬ (১২-১০) গেমে হারান।
ম্যাচের তৃতীয় সেটের টাইব্রেকারে ৯-৮ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে গফের ম্যাচ পয়েন্টের মুখে পড়েছিলেন মুচোভা। তবে গফের ড্রপ শট নেটে আটকে গেলে নতুন জীবন পান তিনি। এরপর দারুণ প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে টানা গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট জিতে ম্যাচ নিজের করে নেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একাধিক অস্ত্রোপচারের ধকল সামলেও মুচোভা অসাধারণ লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। পুরো ম্যাচজুড়ে তার দুর্দান্ত রক্ষণ, সাহসী নেট প্লে এবং চাপের মুহূর্তে স্থিরতা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।
অন্য সেমিফাইনালে নবম বাছাই লিন্ডা নোসকোভা ইউক্রেনের মার্তা কস্টিউককে ৬-৪, ৬-৪ গেমে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেন।
ফলে উইম্বলডনের নারী এককে এবার অল-চেক ফাইনাল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০০৯ সালে উইলিয়ামস বোনদের পর এই প্রথম একই দেশের দুই নারী খেলোয়াড় উইম্বলডনের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছেন। পাশাপাশি টানা চার বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ভেনাস রোজওয়াটার ডিশ শিরোপা চেক প্রজাতন্ত্রের কোনো খেলোয়াড়ের হাতেই উঠতে যাচ্ছে।



