রয়টার্স
চীনের একটি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হিসেবে ৬০ বছরপূর্ণ করেছে তিব্বত। এ দিন তিব্বতিরা রাজধানী লাসায় নেচে, গেয়ে ও কুচকাওয়াজ করে দিবসটি উদযাপন করছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এই বিশেষ দিনটিতে লাসায় হাজার হাজার মানুষ ছোট ছোট লাল পতাকা ও প্ল্যাকার্ড হাতে মিছিল করেন।
দালাই লামার সাবেক শীতকালীন বাসভবন পোতালা প্রসাদের কাছে বিশাল একটি চত্বরে উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। লাসায় হওয়া কুচকাওয়াজ চীনের জাতীয় টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। এ দিন বিরল এক সফরে তিব্বত গিয়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। দেশটির ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতা ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ বেইজিং থেকে বড় একটি প্রতিনিধি দলও তার সফরসঙ্গী হয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে এক ব্যর্থ বিদ্রোহের ডামাডোলের মধ্যে ১৪তম দালাই লামা পালিয়ে ভারতে নির্বাসনে যাওয়ার ছয় বছর পর কমিউনিস্ট পার্টি ১৯৬৫ সালের সেপ্টেম্বরে তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করে। এটি ইনার মঙ্গোলিয়া, শিনজিয়াং, গুয়াংসি ও নিংক্সিয়ার পর চীনের পঞ্চম ও শেষ স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল।
চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলগুলো জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে ধর্মীয় বিশ্বাসের স্বাধীনতাসহ নীতিগত বিষয়গুলোতে অধিকতর স্বাধিকারের স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু পশ্চিমা মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো ও নির্বাসিত তিব্বতিরা অভিযোগ করছে, দশকের পর দশক ধরে চীন তিব্বতে ‘দমনমূলক’ শাসন চালিয়ে আসছে। কিন্তু বেইজিং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। বিদেশীরা তিব্বতে চীনের শাসনের সমালোচনা করে আসলেও চীনের দাবি, তাদের শাসনে অঞ্চলটির সাধারণ মানুষের জীবনমানের নাটকীয় উন্নতি ঘটেছে। চীনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তিব্বতের সড়ক নেটওয়ার্ক প্রায় দ্বিগুণ হয়ে এক লাখ ২০ হাজার কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অঞ্চলটির প্রতিটি শহর ও গ্রাম সংযুক্ত হয়েছে। অঞ্চলটির অর্থনীতিও ১৯৬৫ সালের তুলনায় ১৫৫ গুণ বেড়ে ২০২৪ সালে তিন হাজার ৯০০ কোটি ডলারে উন্নিত হয়। তবে এসব সত্ত্বেও তিব্বতে প্রবেশ করতে বিদেশী সাংবাদিক ও কূটনীতিকদের বেইজিংয়ের বিশেষ অনুমতি নিতে হয়।



