খুলনা ব্যুরো
২০০২ সালে কাঁচামাল সঙ্কটের অজুহাতে বন্ধ করা হয় খুলনা নিউজপ্রিন্ট মিল। তবে সূত্রগুলোর মতে, মিল বন্ধ হওয়ার পেছনে নজিরবিহীন দুর্নীতির ভূমিকা ছিল। মিল পরিচালনার সময়ে সংঘটিত প্রায় পৌনে এক কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৪ সালে মামলা দায়ের হলেও সেই মামলা বিগত ২০ বছরেও তদন্ত শুরু হয়নি।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২ জানুয়ারি তৎকালীন খুলনা জেলা দুদকের কর্মকর্তা মো: নজরুল ইসলাম খুলনা সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দুইজনকে আসামি করা হয়। তারা হলেন মিলের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এম আব্দুল বাতেন খান এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (হিসাব ও অর্থ) অমিয় কুমার দাস।
দায়েরের পর থেকে এই মামলার তদন্তের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র জানায়, মিল বন্ধ হওয়ার পর অধিকাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মস্থল ত্যাগ করলে মামলাটি কার্যত ফাইলবন্দী হয়ে পড়ে।
দুদকের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘বিধি অনুযায়ী এফআইআর দায়েরের ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার কথা বলা আছে, তবে তা বাধ্যতামূলক নয়। বিশেষ তদবির, রাজনৈতিক চাপ বা প্রশাসনিক অগ্রাধিকারের কারণে দেশে বহু মামলা দীর্ঘ দিন ঝুলে থাকে।’
মামলার অভিযুক্ত অমিয় কুমার দাস বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়েছিল মনে আছে। তবে এরপর কোনো ঝামেলায় পড়তে হয়নি। মিল বন্ধ হওয়ায় মামলার কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে।’ অপর অভিযুক্তের সাথে তার কোনো যোগাযোগ নেই।
খুলনা আদালতের দুদকের জিআরও শাখায় মামলাটির নথি সংরক্ষিত রয়েছে। সম্প্রতি নবাগত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারুক ইকবালের সামনে পুরনো মামলার নথি উপস্থাপন করা হলে তিনি দীর্ঘসূত্রতার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেন।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে ঝুলে থাকা এই মামলা এখন রাষ্ট্রীয় জবাবদিহি ও আইনের শাসন নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।



