ত্বকের যতœ মস্তিষ্কও ভালো রাখে

Printed Edition

বাহ্যিক সৌন্দর্য ধরে রাখতেই সাধারণত ত্বকের যতœ নেয়া হয়। তবে কখনো কি ভেবেছেন, প্রতিদিনের এই ‘স্কিন-কেয়ার রুটিন’ শুধু বাইরের উজ্জ্বলতাই বাড়াচ্ছে না, বরং মস্তিষ্ককেও বুড়িয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করছে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন এক গবেষণায় এমন চাঞ্চল্যকর তথ্যই উঠে এসেছে। গবেষকরা বলছেন, ‘ত্বকের স্বাস্থ্যের সাথে ‘ডিমেনশা’ বা স্মৃতিভ্রম এবং অ্যালঝাইমারস রোগের এক গভীর মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক সংযোগ রয়েছে।’

‘ত্বক’ যেভাবে মস্তিষ্কের ঢাল হিসেবে কাজ করে : শরীরে বেশ কিছু প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষামূলক ‘ব্যারিয়ার’ বা প্রাচীর রয়েছে, যার কাজ হল রক্তে ক্ষতিকর টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান ঢুকতে বাধা দেয়া। মানুষের ত্বক হলো শরীরের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীরগুলোর একটি।

যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের অ্যালঝাইমারস রোগ গবেষণার অধ্যাপক এবং স্নায়ুবিজ্ঞানী ড. মালু ট্যানসে সেলফ ডটকময়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, বয়স বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বকের এই প্রতিরক্ষামূলক প্রাচীরে ফাটল বা ফাটলযুক্ত চামড়া তৈরি হয়। ফলে পরিবেশের ক্ষতিকর কীটনাশক, দূষণ বা ব্যাকটেরিয়া সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে।

ত্বকের এই ফাটল বা দুর্বলতার কারণে শরীরে এক ধরনের ‘ইনফ্ল্যামেটরি অ্যালার্ম’ বা প্রদাহ সঙ্কেত তৈরি হয়। এর ফলে রক্তে ‘সাইটোকাইনস’ নামক এক ধরনের ক্ষতিকর প্রদাহ তৈরির উপাদানের মাত্রা বেড়ে যায়।

ড. ট্যানসের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ এক সময় মস্তিষ্কের প্রতিরক্ষামূলক স্তর বা ব্লাড-ব্রেইন ব্যারিয়ারকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং মস্তিষ্কে নিউরো-ইনফ্ল্যামেটরি বা স্নায়ুবিক প্রদাহ সৃষ্টি করে, যা স্মৃতিভ্রমের প্রধান কারণ।

জার্নাল অব ইনভেস্টিগেটিভ ডার্মাটোলজি-তে প্রকাশিত গবেষণায় ৫০ বছরের বেশি বয়সী ২৩৭ জন প্রাপ্তবয়স্কের কয়েক দশকের স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাভাবনার তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল অব মেডিসিনের চর্মরোগবিদ্যার সহযোগী অধ্যাপক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক ডা: ক্যাটরিনা আবুয়াবারা একই প্রতিবেদনে বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ত্বকের পানি ধরে রাখার ক্ষমতা কম (অর্থাৎ ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও ক্ষতিগ্রস্ত), তাদের ১০ বছরে মৌখিক স্মৃতিশক্তি বা শব্দ মনে রাখার ক্ষমতা অনেক দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। আর এটিই এল্ াস্মৃতিভ্রমের প্রাথমিক লক্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সাথে মস্তিষ্কের ক্ষতির সংযোগের পেছনে তিনটি বড় কারণ কাজ করে।

ঘুমের ব্যাঘাত : একজিমা বা সোরিয়াসিসের কারণে সারা রাত গা চুলকানো বা অস্বস্তি ঘুমের ক্ষতি করে। মধ্যবয়সে দীর্ঘস্থায়ী ঘুমের অভাব বার্ধক্যে স্মৃতিভ্রমের ঝুঁকি বাড়ায়।

মানসিক চাপের হরমোন : রাতে চুলকানির কারণে বারবার ঘুম ভাঙলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক চাপের হরমোন নিঃসরণ বাড়ে। অতিরিক্ত কর্টিসল মস্তিষ্কের হিপোক্যাম্পাসকে (যেখানে স্মৃতি তৈরি হয়) সঙ্কুচিত করে ফেলে।

স্নায়ুর ওপর চাপ : ত্বকে লক্ষ লক্ষ স্নায়ু থাকে। ত্বক ফাটলযুক্ত বা রোগাক্রান্ত হলে এই অতি-সংবেদনশীল স্নায়ুগুলো মস্তিষ্কে অতিরিক্ত সঙ্কেত পাঠায়, যা ‘ব্রেন সার্কিট’কে ওভারলোড বা ক্লান্ত করে স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয়। ইন্টারনেট।