সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কিউবার মতো লড়াই করতে হবে : আব্দুল লতিফ মাছুম

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাছুম বলেছেন, দেশকে রক্ষা করতে হলে দু’টি দেশের উদাহরণ আমাদের কাছে আছে, একটি কিউবা অন্যটি সিকিম । ১৯৬২ সালে কিউবা ক্রাইসিস থেকে শুরু করে আজকে প্রায় বহু বছর পার হয়েছে। এখনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কিউবা দখল করতে পারেনি। কিউবার জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌম এবং জাতীয় নিরাপত্তার দিকে যে দৃষ্টিভঙ্গি, কঠোর মনোভাব আর দেশপ্রেম দ্বারা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদকে প্রতিহত করেছে। অন্য দিকে সিকিমকে ১৯৭৪ সালে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করে নেয়া হয় । ২৪-এর জুলাই আন্দোলনের পরেও ভারতের সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলতে হচ্ছে, লড়াই করতে হচ্ছে । সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে কিউবার মতো লড়াই করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

গতকাল সোমবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস স্টুডেন্ট পলিসি ফোরামের আয়োজনে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম : সমসাময়িক বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল লতিফ মাছুম বলেন, ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগ করা হয়েছিল সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুদের নিয়ে হিন্দুস্তান হবে এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠদেরকে নিয়ে মুসলমানদের বসতি হবে। চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সাথে একত্র হওয়ায় ভারতের গাত্রদায়ের কোনো শেষ নেই। এই অংশ কেন বাংলাদেশের সাথে আসবে এই নিয়ে প্রশ্ন। অথচ সেভেন সিস্টার নিয়ে কোনো কথা নেই।

তিনি আরো বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহসিকতার সাথে দেশপ্রেম দিয়ে কূটনৈতিকভাবে ভারতের সাম্রাজ্যবাদীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে পাহারাদি করার জন্য বাংলাদেশ যত দিন থাকবে জিয়াউর রহমানের নামও তত দিন থাকবে।

মুখ্য আলোচক মেহেদী হাসান পলাশ বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে ১৯০০ সালের হিল ট্র্যাক্টস রেগুলেশন এবং বিদ্যমান কিছু বিতর্কিত আইনি কাঠামোর কারণে সেখানে বসবাসরত প্রায় ৫৮ শতাংশ বাঙালি জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, শান্তিচুক্তির পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালি ও সেনাবাহিনীর সদস্য আত্মত্যাগ করেছেন। অন্য দিকে সশস্ত্র সংগঠনগুলোর বার্ষিক প্রায় ৭০০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির সংস্কৃতি উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করছে। সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের স্থায়ী ফোরামে পিসিজেএসএস প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচালিত দেশবিরোধী অপপ্রচার পাহাড়ের শান্তিপ্রিয় জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো: মোস্তফা আল ইহযায বলেন, বাংলাদেশ সরকার পার্বত্য অঞ্চলে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করেছে। সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে সীমান্ত সড়ক নির্মাণ, বিশেষায়িত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান স্থাপন, শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান এবং পর্যটন শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমানের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন ঘটেছে। এ ছাড়া প্রান্তিক ও নি¤œবিত্ত জনগোষ্ঠীর খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এত উন্নয়নের পরও একটি গোষ্ঠী কেন দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বক্তারা আরো বলেন, এ ধরনের আলোচনা দেশী-বিদেশী অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের প্রকৃত চিত্র জনগণের সামনে তুলে ধরতে সহায়ক হবে এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত সব নাগরিকের সমঅধিকার নিশ্চিত করার দাবিতে একটি ঐক্যবদ্ধ জাতীয় অবস্থান গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখবে।

চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস স্টুডেন্ট পলিসি ফোরামের মুখপাত্র রিয়াজুল হাসানের সঞ্চালনায় এবং সমন্বয়ক রাসেল মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় বক্তারা বলেন, আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠনগুলোর রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড জাতীয় ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশকে নিয়ে অপপ্রচার এবং বিদেশী শক্তির মদদপুষ্ট বিভিন্ন ষড়যন্ত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন কর্নেল (অব:) হাসিনুর রহমান, পার্বত্য নিউজের সম্পাদক মেহেদী হাসান পলাশ, এ এইচ এম ফারুক, লেখক গবেষক, মেজর (অব:) জাকির হোসাইন যুগ্মসচিব জনতার দল, পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহম্মেদ রাজু, সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা পরিষদের প্রধান সমন্বয়ক মো: মোস্তফা আল ইহযায, ইসলামী বুদ্ধিজীবী ফোরামের চেয়ারম্যান, শাহ্ সুফি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হান্নান আল হাদী, ইঞ্জিনিয়ার শাহাদাত ফরাজি সাকিব প্রমুখ প্রতিনিধিরা।