নিজস্ব প্রতিবেদক
ইসলামী জ্ঞানচর্চার মানোন্নয়ন এবং আধুনিক গবেষণা পদ্ধতিতে নবীন গবেষকদের দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের উদ্যোগে গত শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের শহীদ মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী কনফারেন্স হলে ‘ইসলামিক রিসার্চ মেথডোলজি’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: আবুল কালাম সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের ইসলামী গবেষণা গড়ে তুলতে গবেষণার পদ্ধতিগত উৎকর্ষ, একাডেমিক সততা এবং দক্ষ গবেষক তৈরির ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মশালা ইসলামী গবেষণা প্রশিক্ষণে নতুন দিগন্তের সূচনা করবে।
ড. আবুল কালাম সরকার আরো বলেন, গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সঠিক নীতি, মূল্যবোধ ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। বর্তমান বাংলাদেশের স্বাধীন ও মুক্ত পরিবেশে বিশ্বমানের ইসলামী গবেষক তৈরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, ইনস্টিটিউট, বিভাগ ও গবেষণা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রয়োজন। যুক্তি, গবেষণা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার মাধ্যমে ইসলামের মহান আদর্শ দেশ-বিদেশে প্রচার ও প্রসার ঘটাতে হবে।
সমাপনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ড. কামরুজ্জামান শামীম বলেন, ইসলামী গবেষণাকে সমসাময়িক বাস্তবতার সাথে সম্পৃক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তোলা সময়ের দাবি। এ ধরনের সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য তিনি বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট এবং বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, জ্ঞানের প্রতিটি ক্ষেত্রেই উৎকর্ষ সাধনের পূর্বশর্ত গবেষণা। আধুনিক বিশ্বে ইসলামের সামগ্রিক কল্যাণের বার্তা কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে গবেষণার বিকল্প নেই। দেশে ইসলামী গবেষণার মানোন্নয়ন ও দক্ষ গবেষক তৈরির লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
এর আগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মো: শামছুল আলম। তিনি বলেন, একটি জাতির জ্ঞানভিত্তিক অগ্রগতির জন্য মৌলিক ও মানসম্মত গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। ইসলামী গবেষণাকে সমকালীন চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতার সাথে সংযুক্ত করে নতুন প্রজন্মের গবেষকদের দক্ষ করে তুলতে হবে। কর্মশালায় বিপুলসংখ্যক তরুণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ইসলামী গবেষণার প্রতি তাদের আগ্রহেরই বহিঃপ্রকাশ। এই আগ্রহ দেশের ইসলামী গবেষণার সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, বর্তমান যুগ যুক্তি ও তথ্য-প্রমাণের যুগ। নির্ভরযোগ্য গবেষণার মাধ্যমেই একজন গবেষক তথ্যসমৃদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য অবস্থানে পৌঁছাতে পারেন।
কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. মুহাম্মদ রুহুল আমিন রব্বানী এবং ড. মোহাম্মদ নাছের উদ্দিন। তারা গবেষণার বিষয় নির্বাচন, তথ্যসূত্রের যথাযথ ব্যবহার, গবেষণা প্রবন্ধ ও রিসার্চ আর্টিকেল লেখার কৌশল, এমফিল ও পিএইচডি গবেষণা-প্রস্তাবনা প্রণয়ন এবং গবেষণাপত্র প্রস্তুতকরণ বিষয়ে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, কওমি ও আলিয়া মাদরাসার স্নাতক শিক্ষার্থী, গবেষক এবং বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও সংস্থার প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা কর্মশালাকে সময়োপযোগী, ফলপ্রসূ ও গবেষকদের জন্য দিকনির্দেশনামূলক উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতে আরো বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের আয়োজনের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশ ইসলামিক ল’ রিসার্চ অ্যান্ড লিগ্যাল এইড সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সেন্টারের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে উপস্থিত অতিথি ও প্রশিক্ষণার্থীদের অবহিত করেন।



