২ বছরেও শেষ হয়নি বিচার, অপূর্ণ ‘জুনায়েদ চত্বর’

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগস্ট রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ১৪ বছরের শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ। বন্ধুদের সাথে বিজয় মিছিলে যোগ দিয়ে প্রাণ হারায় সে। দুই বছর পরও হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। একই সাথে স্থানীয়দের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘জুনায়েদ চত্বর’-এর নির্মাণকাজও অসমাপ্ত রয়েছে। পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্নের পাশাপাশি স্মৃতিচিহ্নটির নির্মাণকাজ শেষ হলে জুনায়েদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।

হাবিবুল বাশার
Printed Edition

চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ৫ আগস্ট রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় ১৪ বছরের শেখ মেহেদী হাসান জুনায়েদ। বন্ধুদের সাথে বিজয় মিছিলে যোগ দিয়ে প্রাণ হারায় সে। দুই বছর পরও হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের। একই সাথে স্থানীয়দের উদ্যোগে শুরু হওয়া ‘জুনায়েদ চত্বর’-এর নির্মাণকাজও অসমাপ্ত রয়েছে। পরিবারের প্রত্যাশা, দ্রুত বিচারপ্রক্রিয়া সম্পন্নের পাশাপাশি স্মৃতিচিহ্নটির নির্মাণকাজ শেষ হলে জুনায়েদের আত্মত্যাগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সংরক্ষিত থাকবে।

ঢাকার গেন্ডারিয়ার ধুপখোলা পুকুরসংলগ্ন এলাকায় বসবাস করে জুনায়েদের পরিবার। উইল পাওয়ার স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র জুনায়েদ বাবা শেখ জামাল ও মা সানিয়া জামালের এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে ছোট ছিল।

পরিবারের ভাষ্য, ৫ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে বন্ধু সিয়ামকে নিয়ে বাসা থেকে বের হয় জুনায়েদ। কিছুক্ষণ পর তার মা ও বড় বোনও আন্দোলনের একটি মিছিলে যোগ দেন। দুপুরে পরিবারের কাছে খবর আসে, নাজিমুদ্দিন রোডে শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজসংলগ্ন এলাকায় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলির ঘটনায় জুনায়েদ আহত হয়েছে। পরে মিটফোর্ড হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

বাবা শেখ জামালের দাবি, ছেলের বাম চোখ দিয়ে গুলি ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। তিনি অভিযোগ করেন, ছেলে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শেষ করে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা উচিত।

তবে হাসপাতালে লাশ দ্রুত সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল এবং না নিলে বেওয়ারিশ হিসেবে পাঠানোর কথা বলা হয়েছিল, শেখ জামালের এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জুনায়েদের মৃত্যুর পর ধুপখোলা পুকুরসংলগ্ন একটি চত্বরের নাম স্থানীয় বাসিন্দারা ‘জুনায়েদ চত্বর’ রাখেন। কিন্তু পরিবারের অভিযোগ, চত্বরটির নির্মাণকাজ শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে মিলাদ, দোয়া ও অসহায় মানুষের জন্য খাবারের আয়োজনের ইচ্ছা থাকলেও অসমাপ্ত নির্মাণকাজের কারণে তা সম্ভব হয়নি।

শেখ জামাল বলেন, সরকারের কাছে তাদের কোনো আর্থিক দাবি নেই। তাদের একমাত্র প্রত্যাশা, সন্তানের হত্যার দ্রুত বিচার। তার ভাষ্য, পরিবারকে যখনই ডাকা হয়েছে, তখনই তারা ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট দফতরে হাজির হয়েছেন। তবে এখনো মামলার দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে পাননি। তাদের বিশ্বাস, বিচার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি স্মৃতিচিহ্নটির কাজ শেষ হলে জুনায়েদের আত্মত্যাগ যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষিত হবে।