ড্র’র দিকে যাচ্ছে মিরপুর টেস্ট

৪র্থ দিনেও বৃষ্টির হানা

Printed Edition

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বাংলাদেশ-পাকিস্তান প্রথম টেস্টের প্রথম দুই দিন হয়েছে নির্বিঘেœ। সবুজাভ উইকেটে স্কোরবোর্ডে যেমন রান উঠেছে, পড়েছে উইকেটও। কিন্তু তৃতীয়-চতুর্থ দিনে প্রতিপক্ষ হিসেবে খেলেছে বৃষ্টিও। ম্যাচের বর্তমান যে অবস্থা, তাতে আপাতদৃষ্টিতে ড্রর দিকেই যাচ্ছে মিরপুর টেস্ট।

গতকাল বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ-পাকিস্তান টেস্টের তৃতীয় দিনে দুই ঘণ্টা খেলা হয়নি। চতুর্থ দিনে সকালে দেশের বিভিন্ন স্থানে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি হলেও ঢাকায় প্রথম সেশনের খেলা হয়েছে নির্বিঘেœ। কিন্তু লাঞ্চ বিরতির পর পৌনে ৪ ঘণ্টা খেলা হয়নি। ৩টা ৪৫ মিনিটে ম্যাচ আবার মাঠে গড়ানোর পর ৯৩ মিনিট ছিল স্থায়িত্ব। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রানে বাংলাদেশ চতুর্থ দিনের খেলা শেষ করেছে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আজ বৃষ্টির সম্ভাবনা ৩০ শতাংশ। টেস্টের শেষ দিনে আজ খেলা শুরু হবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে। নির্বিঘেœ যদি পুরো দিনের খেলা পরিচালনা করা সম্ভব হয়, তাতে ম্যাচের ফল আসা একটু কঠিনই বটে। লিডসহ বাংলাদেশের স্কোর ১৭৯। স্কোরবোর্ডে দ্রুত রান তুলে বোলিংয়ে জাদুকরী কিছু করতে পারলে হয়তো স্বাগতিকদের পক্ষে মিরপুর টেস্টে জেতা সম্ভব।

ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য মোটেও স্বস্তিদায়ক ছিল না! দিনের শুরুতেই দুই ওপেনারকে হারিয়ে চাপে পড়ে যায় টাইগাররা। তবে সেই ধাক্কা সামাল দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। তাদের দৃঢ় জুটিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নেয় বাংলাদেশ। যদিও বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যাওয়া ইনিংসে বাধা হয়ে আসে বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতা। এতে দিনের দ্বিতীয় সেশন পুরোপুরি ভেসে যায় এবং পরে খেলা শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে আজ পঞ্চম দিন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পাওয়ায় সব মিলিয়ে স্বাগতিকদের লিড দাঁড়িয়েছে ১৭৯ রান। হাতে আছে আরো ৭ উইকেট। নাজমুল হোসেন শান্ত ৫৮ এবং মুশফিকুর ১৬ রানে অপরাজিত থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করবেন। শেষ দিনের খেলা শুরু হবে নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে, সকাল পৌনে ১০টায়।

বৃষ্টি ও আলোকস্বল্পতার কারণে পুরো দিনে খেলা হয়েছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। এই সময়ে বাংলাদেশ যোগ করেছে ১৪৫ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪১৩ রান করেছিল, জবাবে পাকিস্তান অলআউট হয়েছিল ৩৮৬ রানে। ফলে শেষ দিনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে লিড আরো বড় করে পাকিস্তানের সামনে কঠিন লক্ষ্য ছুড়ে দেয়া।

দ্বিতীয় ইনিংসে বিনা উইকেটে ১.৫ ওভারে ৭ রানে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। যথারীতি এবারো দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫) ও সাদমান ইসলাম (১০) ব্যর্থ হয়েছেন। জয়কে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ আব্বাস। আর সাদমানকে ফিরিয়েছেন হাসান আলী। হাসানের অতিরিক্ত বাউন্স সাদমানের ব্যাটের মাথায় লেগে সোজা চলে যায় দ্বিতীয় সিøপে সৌদ শাকিলের হাতে।

সাদমান-জয়ের দ্রুত বিদায়ে বাংলাদেশ ১০.৫ ওভারে ২ উইকেটে ২৩ রানে পরিণত হয়। এরপর দলের হাল ধরেন মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত। তৃতীয় উইকেটে তারা (শান্ত-মুমিনুল) ১৯৩ বলে ১০৫ রানের জুটি গড়েছেন। এই জুটি ভাঙতে পারত কয়েকবারই। ২২তম ওভারের পঞ্চম বলে সালমান আলী আগার বল জায়গায় দাঁড়িয়ে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন মুমিনুল। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে চলে গেলেও তালুবন্দী করতে পারেননি।

প্রথম দফায় মুমিনুল যখন বেঁচে যান, তখন তার রান ১৫ এবং বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬০ রান। দ্বিতীয় দফায় তিনি ব্যক্তিগত ৪৩ রানে জীবন পেয়েছেন। ৩৬তম ওভারের শেষ বলে নোমান আলীকে গ্ল্যান্স করতে যান মুমিনুল। ফরোয়ার্ড শট লেগে দাঁড়িয়ে থাকা আবদুল্লাহ ফজলের হাত ফসকে বেরিয়ে যায়। দুইবার জীবন পেয়ে ২৭তম টেস্ট ফিফটি তুলে নেন মুমিনুল।

ফিফটির পর মুমিনুল যোগ করতে পেরেছেন মাত্র ৬ রান। ৪৩তম ওভারের পঞ্চম বলে শাহিন শাহ আফ্রিদির ইনসুইং ডেলিভারি মুমিনুলের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে চলে যায় রিজওয়ানের হাতে। ৫৬ রান করা মুমিনুলের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন মুশফিকুর। যেখানে ৫১তম ওভারের তৃতীয় বলে হাসানকে মিডঅনে মুশফিক পুশ করার পরই দেখা দেয় আলোকস্বল্পতা। ম্যাচ আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয় দেখে আম্পায়াররা সেখানেই দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেন। বিকেল ৫টা ১৮ মিনিটে যখন চতুর্থ দিনের খেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়, তখন বাংলাদেশের স্কোর ৫০.৩ ওভারে ৩ উইকেটে ১৫২ রান। লিডসহ স্বাগতিকদের স্কোর ১৭৯ রান। শান্ত ও মুশফিক ৫৮ ও ১৬ রানে ব্যাটিং করছেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ ইনিংস : ৪১৩/১০ ও ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৫৮*, মুশফিক ১৬*; আফ্রিদি ১/৩৯, আব্বাস ১/৩৫, হাসান ১/২৩)।

পাকিস্তান ১ম ইনিংস : ৩৮৬/১০

চতুর্থ দিন শেষে : বাংলাদেশ ১৭৯ রানে এগিয়ে।