চাই না কারো সাথে এমন অন্যায় হোক : জিমি

Printed Edition

রফিকুল হায়দার ফরহাদ

বাতিলের খাতাতেই ফেলে দেয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের পর আর জাতীয় দলে ডাক পাননি। শেষ পর্যন্ত হকি ফেডারেশনের আগের অ্যাডহক কমিটি বদল করে নতুন অ্যাডহক কমিটিকে দায়িত্ব দেয় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ। ফলে নতুন কমিটি আস্থা রাখেন রাসেল মাহমুদ জিমির ওপর। যে কারণে ক্যারিয়ারে পঞ্চম বারের মতো এশিয়ান গেমস খেলার সুযোগ হচ্ছে এ সেন্টার ফরোয়র্ডের। জিমি নিজ থেকেই জানান, বলতে পারেন এটিই আমার শেষ এশিয়ান গেমস। এ গেমস আসে চার বছর পরপর। আগামী চার বছর পর আমার ফর্ম, ফিটনেস থাকবে না তা জানি না। তাই এটিই আমার শেষ এশিয়ান গেমস। আর এ গেমসে বাংলাদেশকে হকিতে সেরা ছয়ে রাখতে চাই। তাহলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিসহ অন্য টুর্নামেন্টগুলোর খেলার সুযোগ হবে। এর পরেই যোগ করেন, আমার সাথে বিগত বছরগুলোতে যে অন্যায় করা হয়েছিল, বেশি বয়স বলে আমাকে যে বাদ দেয়া হয়েছিল, আমি চাই না কোনো খেলোয়াড়ের ক্ষেত্রে এ এমন ঘটনা ঘটুক। গত দেড়-দুই বছরে আমি যে কষ্টটা করেছি দোয়া করি কোনো খেলোয়াড় যেন এ পরিস্থিতির মুখে পড়ে।

জিমি জানান, বিগত বছরগুলোতে আমি জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম। তবে আমি কখনই ভাবিনি আমার জাতীয় দলের ক্যারিয়ার শেষ। আমি জানতাম ফেডারেশনে ভালো লোকজন আসলেই আমি ডাক পাবো। কারণ আমাকেতো বাদ দেয়া হয়েছিল ষড়যন্ত্রমূলকভাবে। বেশি বয়সের অজুহাতে। পারফরম্যান্সের কারণে নয়। এখন যারা ফেডারেশনের দায়িত্বে আছেন তারা হকিকে ভালোভাবে এবং আমার সম্পর্কে জানে বলেই জাতীয় দলে ফের সুযোগ দিয়েছে।

তার মতে, এ যে এখন আমাকে আবার জাতীয় দলে ডাকা হলো এতে আমার জন্য চ্যালেঞ্জটা বেড়ে গেছে আরো ভালো করার জন্য। আমি চাইবো আমার সেরাটা দিয়ে চেষ্টা করব বাংলাদেশ দলেকে জেতাতে। দলকে এশিয়ান গেমসের সেরা ছয়ে রাখতে। আমি চাই সবাই বলুক আমি কাম ব্যাক করার পর দল ভালো করেছে। আমিও ভালো করেছি। দল নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছে।

জিমি গোল করেন আবার গোল করান। তবে তিনি গোল করাতেই বেশি পছন্দ করেন। জানান, আমি সেন্টার ফরোয়ার্ডে খেলি। কিন্তু আমার ভালো লাগে গোল করাতে। দোহা এশিয়ান গেমসে পর জিমির কাছে স্মরণীয় ২০০৭ সালের এশিয়া কাপ। সে আসরে তিনি পরপর তিন ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হয়েছিলেন। এ ছাড়া ২০১৩ সালে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হকি টুর্নামেন্টে তিনি টুর্নামেন্ট সেরা হয়েছিলেন।

সাবেক তারকা হকি খেলোয়াড় ও কোচ প্রয়াত আব্দুর রশীদ সোনা মিয়ার ছেলে এ জিমি। বাবার হাত ধরেই হকিতে আসা। জিমি প্রথমে আলোচনায় আসেন ২০০৩ সালে বিকেএসপিতে হওয়া অনূর্ধ্ব-১৬ এশিয়ান কাপ হকি দিয়ে। সে আসরে দুর্দান্ত খেলেছিলেন তিনি। এরপর ২০০৬ সালের দোহা এশিয়ান গেমস দিয়ে প্রথম এ গেমসে অভিষেক। এখন পর্যন্ত দোহা এশিয়াডই জিমির কাছে সেরা। তার মতে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের কাছেই স্বপ্ন থাকে এশিয়ান গেমসে খেলার। ২০০৬ সালে আমার সে সুযোগ আসে। তবে প্রথম দুই ম্যাচে আমি ভালো করতে পারিনি। এতে সবাই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এরপর আমি ঘুরে দাঁড়িয়েছি। পরের ম্যাচগুলোতে গোলও করেছি নিয়মিত। তাই ওই এশিয়ান গেমস আমার কাছে স্মরণীয়।

সর্বশেষ মোহামেডানে খেলা জিমি এবং বর্তমান হকি ফেডারেশনের সদস্যও। ফেডারেশনের সদস্য হওয়ার জন্য তিনি ধন্যবাদ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে। জানান, আমি খেলোয়াড়ি জীবনের সাথে ফেডারেশনের সদস্যও। এতে আমি খেলোয়াড়দের সমস্যাগুলো ভালোভাবে তুলে ধরতে পারব ফেডারেশনে।

বাংলাদেশের হকির এ মুহূর্তে বড় তারকা জিমি। যদিও তার ইচ্ছে ছিল ফুটবলার হওয়া। জানান., আমার ইচ্ছে ছিল ফুটবলার হওয়ার। কিন্তু বাবা হকিতে ছিলেন। রক্তেতো হকি। তাই হকিতে এসেছি। হকিতে আছি বলেই সবাই আমাকে চেনে। হকিতে এখন নিশ্চয়তা আছে। বর্তমান সরকারের কারণে বেতন পাচ্ছে খেলোয়াড়রা। বাহিনীতেও চাকরি হচ্ছে। তবে হকিতে কিছু বাজে লোকের অনুপ্রবেশে ক্ষতি হয়েছে।

এ প্রথম দুই ভাই জাতীয় দলে। জিমি জানান, বাবার খুব শখ ছিল আমরা যেন দুই ভাই একসাথে জাতীয় দলে খেলি। আমি বাবার কোচিংয়ে জাতীয় দলে খেলেছি। ছোট ভাই রাকিন যখন জাতীয় দলে তখন আমি বাইরে। তার ও আমার ইচ্ছে ছিল একসাথে জাতীয় দলে খেলার, যা আমাদের পরিবারের জন্য গর্ব হবে। শেষ পর্যন্ত এবার সে স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।

হকি পরিবার থেকে আসা। তাই স্টিক তুলে রাখার পর কোচিং করানোর ইচ্ছে জিমির। মূল লক্ষ্য জাতীয় দলেও কোচিং করানো।