কোলাব্যাঙের বিয়ে : হাফিজ মুহাম্মদ

Printed Edition
কোলাব্যাঙের বিয়ে :  হাফিজ মুহাম্মদ
কোলাব্যাঙের বিয়ে : হাফিজ মুহাম্মদ

টুপটাপ বৃষ্টি পড়ছে। চারদিকে বর্ষাকালের দৃশ্য। বড়ভিটা গ্রামে ছিল পাশাপাশি দু’টি বিল। একটির নাম উজানি বিল। অপরটির নাম সুজানি বিল। মাঝেমধ্যে পশ্চিমাকাশে কালো মেঘ জমলেই জোর বৃষ্টি নামে। সম্প্রতি দুই বিলে নতুন পানি জমেছে। সেখানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় কোলাব্যাঙের দল ডাকাডাকি করে। প্রকৃতির কাছে তাদের একটাই আর্তি, মুষলধারে বৃষ্টি ঝরুক। টানা দুই সপ্তাহ ধরে বৃষ্টি হলেও কোনো ক্ষতি নেই! কারণ, চারদিকে পানি থইথই করলে কোলাব্যাঙদের বিয়ের হিড়িক পড়ে। অনেকেই বিয়ের জন্যে আধপাগল।

উজানি বিলের রাজা উজি ব্যাঙ। সুজানি বিলের রাজা সুজি ব্যাঙ। দুই বিলে তাদের অনুমতি ছাড়া কেউ কোনো কথা বলার সাহস পেত না। ছোট ছোট কোলাব্যাঙেরা এ বিল-ও বিল লাফিয়ে বেড়াত। সুন্দরী কোলাব্যাঙদের পছন্দ করত। কিন্তু রাজার কাছে নিজেদের বিয়ের কথা বলার সাধ্য কারো নেই! তাহলে...? তাহলে আবার কী? এ জন্য দরকার রাজার বিশেষ দূত। দেখতে দেখতে কয়েক দিন কাটল। শ্রাবণের প্রথম সপ্তাহে একবেলা বৃষ্টি হলো। আরেক বেলা রোদ উঠল। প্রচণ্ড রোদে বৃষ্টির পানি দ্রুত শুকিয়ে গেল। দ্বিতীয় সপ্তাহে ঘটল এক হুলুস্থুল কাণ্ড! টানা ৯ দিন ধরে মুষলধারে বৃষ্টি। বিলের পানি উপচেপড়ার মতো উপক্রম।

উজি ও সুজির রাজ-দরবারে তিন ডজন বিয়ের প্রস্তাব এলো। কিন্তু সমস্যা এখানেই। রাজারা তাদের উজির-নাজিরকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দিলেন। দুই বিলের মধ্যে এক ডজন কোলাব্যাঙের উপযুক্ত বয়স হয়নি। যাকে বলে, ব্যাঙদের সমাজে বাল্যবিয়ে। বাকি দুই ডজন কোলাব্যাঙের বিয়ে দুদিনের মধ্যে সম্পন্ন হলো। কয়েক দিন ধরে বিয়ে উৎসবের বাজনা বাজল।

দুই রাজা হঠাৎ ঘোষণা দিলেন, নতুন জামাইদের নিয়ে সাঁতার প্রতিযোগিতা করা হোক। যেই কথা, সেই কাজ। সব কিছুর বন্দোবস্ত শেষ। মাইকে বিশেষ ঘোষণা এলো। সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের আকর্ষণীয় পুরস্কারে ভূষিত করা হবে। প্রতিযোগীরা সবাই প্রস্তুতি সম্পন্ন করল। সেখানে দেখা গেল, ফুলকি কোলাব্যাঙ প্রথম স্থান অধিকার করেছে। সে পেল সোনার মেডেল ও সোনার কাপ। দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে দুলকি কোলাব্যাঙ। সে পেল রুপার মেডেল ও রুপার কাপ। আগত দর্শকরা হাততালি দিলো। আনন্দে মেতে উঠল। এ আনন্দ-উৎসব চলল পুরো শ্রাবণ মাসজুড়ে। আর যেসব কোলাব্যাঙের বিয়ের বয়স এখনো হয়নি, তারা আগামী বছরের বর্ষার অপেক্ষায় আনন্দমনে দিন গুনতে লাগল।