বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ‘ডার্ক হর্সরা’

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই শুধু আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, স্পেন বা ইংল্যান্ডের মতো পরাশক্তিদের লড়াই নয়; প্রতিটি আসরেই এমন কিছু দল থাকে, যাদের কাছ থেকে খুব বেশি কিছু প্রত্যাশা করা হয় না, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারাই হয়ে ওঠে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় চমক। এসব দলকেই বলা হয় ডার্ক হর্স। ২০২২ বিশ্বকাপে মরক্কো সেমিফাইনালে ওঠে ইতিহাস গড়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়া ফাইনাল খেলেছিল, ২০০২ সালে তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়া সেমিফাইনালে পৌঁছেছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফুটবল বিশ্লেষকদের আলোচনায় উঠে এসেছে কয়েকটি দল, যারা এবারও বড় চমক দেখাতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনাল বা তারও বেশি দূর যাওয়ার সামর্থ্য রয়েছে কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, সেনেগাল, জাপান, সুইজারল্যান্ড, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর।

কলম্বিয়া : আক্রমণভাগে ভয়ঙ্কর শক্তি

সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম ধারাবাহিক দল কলম্বিয়া। দলটির সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের আক্রমণভাগ। উইঙ্গার লুইস দিয়াজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ড্রিবলার ও আক্রমণভাগের খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার সাথে রয়েছেন রিচার্ড রিওস ও ঝন আরিয়াস।

মিডফিল্ডে অভিজ্ঞ জেমস রদ্রিগেজ এখনো দলের মূল সৃজনশীল শক্তি। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে তিনি সাতটি অ্যাসিস্ট করেছেন এবং তিনটি গোলও করেছেন। অনুকূল ড্রয়ের কারণে কলম্বিয়ার সামনে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছানোর বড় সুযোগ রয়েছে। অনেকের মতে, তারা শুধু শেষ আটেই নয়, সেমিফাইনালেও পৌঁছাতে পারে।

ইকুয়েডর : রক্ষণভাগই সবচেয়ে বড় অস্ত্র

বিশ্বকাপের সম্ভাব্য ডার্ক হর্সদের মধ্যে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দলগুলোর একটি ইকুয়েডর। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে তারা মাত্র পাঁচ গোল হজম করেছে, যা ছিল রেকর্ড। ডিফেন্সে উইলিয়ান পাচো, পিয়েরো হিনকাপিয়ে ও পারভিস এস্তুপিনিয়ানের মতো ইউরোপের শীর্ষ লিগে খেলা ফুটবলার রয়েছেন। মিডফিল্ডে চেলসির তারকা মোইসেস কাইসেদো দলটির নিয়ন্ত্রক। আক্রমণে কিছুটা ঘাটতি থাকলেও অভিজ্ঞ এননার ভ্যালেন্সিয়াকে ঘিরে ইকুয়েডর বড় কিছু করার স্বপ্ন দেখছে।

সেনেগাল : আফ্রিকার নতুন আশা

২০০২ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল সেনেগাল। ২৪ বছর পর আবারো সেই ইতিহাস পুনরাবৃত্তির স্বপ্ন দেখছে আফ্রিকার দলটি। সাদিও মানের নেতৃত্বে সেনেগালের আক্রমণভাগ এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী। রক্ষণভাগে অভিজ্ঞ কালিদু কুলিবালি এবং মাঝমাঠে শক্তিশালী সংগঠন দলটিকে বাড়তি ভারসাম্য দিয়েছে।

জাপান : এশিয়ার সবচেয়ে বড় ভরসা

গত কয়েক বছরে জাপান প্রমাণ করেছে তারা আর শুধু এশিয়ার দল নয়, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তি। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা স্পেন ও জার্মানিকে হারিয়েছিল। এর পরের বছরগুলোতে ব্রাজিল ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও জয় পেয়েছে। কোচ হাজিমে মোরিয়াসুর অধীনে দ্রুতগতির, উচ্চ প্রেসিং ফুটবল খেলছে জাপান। ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলা একঝাঁক ফুটবলার নিয়ে গড়া দলটি এবার কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকানোর স্বপ্ন দেখছে।

সুইজারল্যান্ড : ধারাবাহিকতার প্রতীক

বিশ্বকাপে বড় চমক দেয়ার মতো দলগুলোর মধ্যে সুইজারল্যান্ড অন্যতম। তারা টানা তিনটি বিশ্বকাপে নকআউট পর্বে খেলেছে। এছাড়া টানা দু’টি ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া দলটির বেশিরভাগ খেলোয়াড় ইউরোপের বড় বড় ক্লাবে খেলেন। অনুকূল গ্রুপ পাওয়ায় সুইসদের সামনে অনেক দূর যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তুরস্ক : নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন

২০০২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হওয়া তুরস্ক দীর্ঘদিন বিশ্বকাপের বাইরে ছিল। তবে এবার তারা ফিরেছে নতুন স্বপ্ন নিয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা আরদা গুলার এবং জুভেন্টাসের কেনান ইলদিজকে ঘিরে গড়ে উঠেছে নতুন তুরস্ক। ইউরো ২০২৪-এ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দিয়েছে তারা। যদি ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে, তবে তুরস্ক হতে পারে এবারের বড় চমক।

যুক্তরাষ্ট্র : স্বাগতিকের বাড়তি সুবিধা

বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্বাগতিক দেশগুলো প্রায়ই প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছে। সেই হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহেলা করার সুযোগ নেই। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিচ, ফোলারিন বালোগুন, রিকার্দো পেপি ও সার্জিনিও ডেস্টদের নিয়ে গড়া দলটির আক্রমণভাগ বেশ শক্তিশালী। নিজেদের মাঠে লাখো সমর্থকের সামনে খেলতে নামবে যুক্তরাষ্ট্র, যা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে।