নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের চরম অদক্ষতা, অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই সাধারণ জনগণকে মাশুল দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি। তিনি বলেন, একদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি তেল, গ্যাস ও সারের সঙ্কট; অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি মানুষের জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর পল্টন মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত লংমার্চ কর্মসূচি উপলক্ষে লিফলেট বিতরণপূর্ব এক সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। তিনি পল্টন মোড়, দৈনিক বাংলা ও ফকিরাপুল এলাকায় আগামীকাল শনিবার ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া চট্টগ্রামমুখী লংমার্চের প্রচারপত্র বিতরণ করেন।
বুলবুল অভিযোগ করে বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-জ্বালানি সঙ্কট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সর্বস্তরে দলীয়করণ বন্ধসহ ছয় দফা দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পর আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করা হবে। এরপর ১৪ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে মহাসমাবেশ।
সংসদে গণদাবি উপেক্ষা করা হলে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে তা আদায় করার হুঁশিয়ারি দেন এই জামায়াত নেতা। একইসাথে তিনি বর্তমান ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে বলেন, সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ঢালাওভাবে দলীয় লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে, যার ফলে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। গণভোটের রায় মেনে নিয়ে অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের জোর দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। একই দিন লংমার্চ সফল করতে রাজধানীর কাওরান বাজার, তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড ও সাতরাস্তা এলাকায় লিফলেট বিতরণ করেন দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানি সঙ্কট নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার ও গণরায় বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এ লংমার্চ আয়োজন করা হয়েছে।



