লেনদেনের আড়ালে অর্থপাচার ঠেকাতে সমন্বিত উদ্যোগ

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

বাণিজ্যিক লেনদেনের আড়ালে অর্থপাচার ঠেকাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে একটি আন্তঃসংস্থা পরিচালনা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) উদ্যোগে রাজধানীতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠান, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ ও ব্যাংকগুলোর প্রতিনিধিদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা গেছে, বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং একটি জটিল ও আন্তঃদেশীয় আর্থিক অপরাধ। বাণিজ্যের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য অতিরিক্ত বা কম দেখানো, ভুয়া নথি ব্যবহার, পণ্যের পরিমাণে অসঙ্গতি এবং আমদানি-রফতানি লেনদেনের অপব্যবহারের মাধ্যমে এ ধরনের অর্থপাচার সংঘটিত হতে পারে। অপরাধের ধরন ও কৌশল ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ায় একক কোনো সংস্থার পক্ষে তা শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা কঠিন।

সভায় বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট, বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ ও বৈদেশিক মুদ্রা কার্যক্রম বিভাগ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেল, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর, ঢাকা কাস্টমস হাউজ, বেনাপোল কাস্টমস হাউজ, কমলাপুর অভ্যন্তরীণ কনটেইনার ডিপো, মংলা কাস্টমস হাউজ, বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন ও বাণিজ্যের পরিমাণ বিবেচনায় নির্বাচিত ১৫টি তফসিলি ব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভায় অংশগ্রহণকারীরা বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিং শনাক্তকরণে বিদ্যমান ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ, তথ্য বিনিময়ের সীমাবদ্ধতা এবং তদন্ত কার্যক্রমে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সন্দেহজনক বাণিজ্যিক কার্যক্রম দ্রুত শনাক্ত করতে ব্যাংকিং লেনদেন, আমদানি-রফতানি তথ্য, শুল্কসংক্রান্ত নথি এবং আর্থিক গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা পরিচালনা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। কমিটি নিয়মিতভাবে বাণিজ্যভিত্তিক মানিলন্ডারিংয়ের ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা, গৃহীত পদক্ষেপের অগ্রগতি মূল্যায়ন, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সন্দেহজনক বাণিজ্যিক কার্যক্রম শনাক্তকরণ, তথ্য বিশ্লেষণ এবং তদন্তকার্যক্রম আরো কার্যকর হবে। আন্তর্জাতিক উন্নত পদ্ধতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে এ উদ্যোগ দেশের অর্থপাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আন্তঃসংস্থা সহযোগিতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।