অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তায় সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পুরস্কার

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সহায়তাকারীদের জন্য আবারো পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, ভারী অস্ত্রের তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেয়া হবে। শনিবার রাজারবাগ পুলিশ অডিটোরিয়ামে পুলিশ সদর দফতর আয়োজিত ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সম্মেলন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ ঘোষণা দেন। অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাদের জন্য নির্ধারিত নতুন হার অনুযায়ী, পিস্তল, রিভলবার বা শটগানের হদিস দিলে মিলবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া সাউন্ড গ্রেনেড, লুণ্ঠিত টিয়ারগ্যাস শেল এবং অন্যান্য অস্ত্রের ক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ হাজার, ১৫ হাজার ও ২০ হাজার টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশ্বস্ত করে জানান, তথ্যদাতাদের নাম-পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন ও সুরক্ষিত রাখা হবে।

অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি দেখাতে না পারলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া যেসব অস্ত্রের বাতিলকৃত লাইসেন্স সময়মতো জমা পড়েনি, সেগুলোকে অবৈধ গণ্য করে মামলা দায়েরের পাশাপাশি উদ্ধার অভিযান চলছে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো: আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খন্দকার রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতার পরিবর্তনের দিনে গণভবন, জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার অস্ত্র লুট হয়। পরবর্তী সময়ে তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এলএমজিসহ লুণ্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে প্রথম দফায় পুরস্কার ঘোষণা করেছিলেন। লুণ্ঠিত অস্ত্রের একটি বড় অংশ এখনো বাইরে থেকে যাওয়ায় এবার সব ধরনের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নতুন করে এ ঘোষণা দিলো সরকার।