নিজস্ব প্রতিবেদক
জামায়াতে আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি সংসদে আদায় না হলে রাজপথে ফয়সালা হবে। সংবিধান সংস্কারের পে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ জনগণ গণভোটে রায় দিয়েছে। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে। সংবিধান সংশোধনের নামে কোনো ভাঁওতাবাজি জনগণ মেনে নেবে না। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘জীবন দেবো; কিন্তু চব্বিশকে হারিয়ে যেতে দেবো না।’ একই সাথে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসনে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানান।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় রাজধানীর কাকরাইলে আইডিইবি ভবন মিলনায়তনে জুলাই শহীদ দিবস উপলে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দেিণর উদ্যোগে শহীদ আবু সাঈদসহ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, আজ যে সংসদ ও সরকার গঠিত হয়েছে, সবাই স্বীকার করেন এটি ২০২৪-এর ফসল। অথচ কেউ কেউ বলতে চান, ২০২৪ তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, আগের অংশটাই গুরুত্বপূর্ণ। সেই সময়েই তো আমরা আমাদের ১১ জন শীর্ষ নেতাকে হারিয়েছি। শত শত সহকর্মীকে হারিয়েছি। অসংখ্য মানুষ কারাগারে গেছেন, চাকরি হারিয়েছেন, বাড়িঘরে থাকতে পারেননি। আমরা সেই ত্যাগ অস্বীকার করি না। কিন্তু এটাও সত্য, ২০২৪ না হলে সরকার আর বিরোধী দল হতে পারত না। শহীদ ও আহতদের পরিবারের আত্মত্যাগের মর্যাদা রায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই।
জামায়াত আমির বলেন, সবচেয়ে বড় দাবি ছিল, ফ্যাসিবাদ যেন আর বাংলাদেশে ফিরে না আসে। এ জন্য রাষ্ট্রসংস্কার প্রয়োজন ছিল। নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রয়োজন ছিল। অতীতের পচা রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন ছিল। কেউ কেউ বলেছেন, গণভোট সংবিধানে নেই। গণভোটের বিষয় নানা প্রশ্ন এমনভাবে ছুড়ে দেয় যা দেশের ১৮ কোটি মানুষকে অপমান করার শামিল। তিনি আরো বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি এভাবে জাতির সাথে প্রতারণা করেন, তাহলে জনগণ কোথায় যাবে? যারা দেশ চালাবেন, আইন করবেন, তাদের ন্যূনতম নৈতিক মানদণ্ড থাকা উচিত।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ কারো নির্দেশনায় পরিচালিত হবে না; বরং ১৮ কোটি মানুষের ইচ্ছাই হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি। তিনি বলেন, জুলাইয়ের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে রাজপথ ও সংসদ উভয় জায়গায় আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দেিণর আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, জুলাই জাদুঘরের ইতিহাস বিকৃত করার কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন হতে দেয়া হবে না। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস নিয়ে কোনো ধরনের চক্রান্ত মেনে নেয়া হবে না।
ব্রি. জে. (অব:) হাসিনুর রহমান বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী শিলং থেকে একজন দেশে এসে দাবি করছেন তিনি নাকি জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন! লুটপাটের চেষ্টা না করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
শহীদ মোবারক হোসেনের পিতা রমজান আলী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই গণহত্যার বিচার সম্পন্ন না করেই নির্বাচন দিয়ে নতুন সরকারের কাছে মতা হস্তান্তর করে বিদায় নিয়েছে। আমরা নতুন সরকারের কাছে জুলাই গণহত্যার বিচার দাবি করছি। তবে আমরা উদ্বিগ্ন সরকার গণহত্যার বিচার করবে কি না! সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরবর্তীতে বলে সেটি শুধু নির্বাচনে জয়ের জন্য! তিনি বলেন, গণহত্যার বিচার এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এবার শহীদ পরিবার রাজপথে নামতে বাধ্য হবে। তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান হয়তো জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন, নয়তো আগামীর আন্দোলনে আমার বুকে বুলেট মারার জন্য আমার ট্যাক্সের টাকায় বুলেট কিনে রাখুন!
সভায় আরো বক্তব্য দেনÑ ডাকসুর ভিপি সাদেক কায়েম। তিনি জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত নতুন বাংলাদেশ কোনোভাবেই লুটেরাদের হাতে তুলে দেয়া যাবে না।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি এবং সঞ্চালনা করেন ঢাকা মহানগরী দেিণর সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। অনুষ্ঠানে শহীদ মেহেদী হাসানের পিতা শেখ জামাল হোসেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ রাশেদুল ইসলাম এমপি ও মনজুরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবদুস সুবুর ফকির, অ্যাডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, দেলোয়ার হোসেনসহ মহানগর দেিণর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। এ ছাড়াও জুলাইয়ের শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহত যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।



