মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চরফ্যাসন (ভোলা)
ভোলার সমুদ্র উপকূলীয় চরফ্যাসন উপজেলা সদরে অবস্থিত আদালত চত্বর সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সঠিক ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং নিচু ভূমির কারণে প্রতি বর্ষায় সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। ফলে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিদিন চরম বিপাকে পড়ছেন।
চরফ্যাসন চৌকি আদালতে তিনটি পৃথক বিভাগ, সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, সহকারী জজ কোর্ট এবং যুগ্ম জজ কোর্ট রয়েছে। চরফ্যাসন ও মনপুরা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ মামলার শুনানি, সাক্ষ্য প্রদান ও আইনি পরামর্শের জন্য এখানে আসেন। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই মূল ভবনের চারপাশ ও প্রবেশপথ পানিতে তলিয়ে যায়।
গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আদালত চত্বরের চারপাশের রাস্তা ও প্রাঙ্গণে জলজট দেখা দিয়েছে। বাধ্য হয়ে বিচারপ্রার্থীরা নোংরা পানি মাড়িয়ে ভবনে প্রবেশ করছেন। দূর-দূরান্ত থেকে আসা প্রবীণ ও নারী বিচারপ্রার্থীদের জন্য এ পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে কয়েকজন আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থী জানান, বছরের পর বছর ধরে বর্ষাকালে এই একই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কিন্তু পানি নিষ্কাশনের জন্য স্থায়ী কোনো ড্রেন বা নালা তৈরি করা হয়নি, যার ফলে বাধ্য হয়ে এ অবস্থায় কাজ চালাতে হচ্ছে।
পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সমস্যা সমাধানে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেয়া হচ্ছে। চরফ্যাসন পৌরসভার প্রকৌশলী শামীম আহমেদ জানান, আদালত চত্বরের ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক সচল ও সম্প্রসারণ করার জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট প্রাক্কলন করে সংশ্লিষ্ট দফতরে পাঠানো হয়েছে। চরফ্যাসন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রোমানা আফরোজ বলেন, আদালত চত্বরের পানি নিষ্কাশন সমস্যার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ড্রেনেজ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। সরকারি অর্থ বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই দ্রুততম সময়ে ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে, যাতে স্থায়ীভাবে জলজট দূর হয়।



