নোবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাসের ময়নাদ্বীপে এবার দেখা মিলেছে দৃষ্টিনন্দন জলচর পাখি ‘বেগুনি কালিম’ (চঁৎঢ়ষব ঝধিসঢ়যবহ)। উজ্জ্বল বেগুনি-নীল শরীর, লাল টকটকে ঠোঁট আর লম্বা পায়ের এই পাখিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলাশয় ও ঘাসযুক্ত এলাকায় বিচরণ করতে দেখা যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে বর্তমানে ১৩১ প্রজাতির বন্যপ্রাণীর বসবাস রয়েছে। সেই তালিকায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এই অপূর্ব সুন্দর পাখিটি। সাধারণত হাওর, বিল বা নলখাগড়াঘেরা জলাভূমি অঞ্চলে এদের দেখা মিললেও, ক্যাম্পাসের শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ এদের আকৃষ্ট করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বেগুনি কালিম সাধারণত ছোট ছোট দলে বাস করতে পছন্দ করে। এর শক্তিশালী লাল ঠোঁট এবং বড় আঙুলযুক্ত পা একে জলজ উদ্ভিদের ওপর দিয়ে অনায়াসে হাঁটতে সাহায্য করে। মূলত জলজ উদ্ভিদের কচি ডগা, শাপলা-শালুক এবং ছোট জলজ প্রাণী এদের প্রধান খাবার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন, ক্যাম্পাসের জলাশয়ে কচুরিপানা ও জলজ উদ্ভিদের প্রাচুর্য এবং মানুষের অবাধ বিচরণ কম হওয়ায় এখানে বন্যপ্রাণীরা নিরাপদ বোধ করছে। এই পাখির উপস্থিতি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও এক ধাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়াও শীতকালে হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হিমালয় ও সাইবেরিয়া অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পরিযায়ী পাখি ছুটে আসে নোবিপ্রবির এই ময়নাদ্বীপে ।
বেগুনি কালিম পাখিটির নান্দনিক কিছু মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দী করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আবদুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো: তসলিম মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমি আসলে একজন শখের ‘পাখি ফটোগ্রাফার’। আমি ক্যাম্পাসেই থাকি, যে কারণে অবসর সময় পেলে ক্যামেরা নিয়ে বের হই পাখির ছবি তোলার জন্য। আমি এ পর্যন্ত অনেকগুলো পাখির ছবি তুলেছি। যার মধ্যে পানকৌড়ি অন্যতম। তবে বেগুনি কালিম আমার অনেক পছন্দের। তিনি আরো জানান, বাইরে কোথাও বেগুনি কালিম সচারাচর দেখা যায় না। তবে এটি আমাদের ক্যাম্পাসে প্রায়ই দেখা যায়। নোবিপ্রবিতে প্রায় ১৩১ প্রজাতির প্রাণী আছে। চেষ্টা আছে আরো প্রাণীর এমনসব চমকপ্রদ ছবি তোলার। আমাদের ক্যাম্পাসের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা বরাবরই সচেতন। এই ধরনের বিরল ও সুন্দর পাখির বিচরণ আমাদের পরিবেশগত সাফল্যেরই প্রমাণ।
উল্লেখ্য, নোবিপ্রবিকে বন্যপ্রাণীদের জন্য একটি প্রকৃত ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ জোন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বেগুনি কালিমের মতো পাখির উপস্থিতি সেই প্রচেষ্টাকে আরো সার্থক করে তুলল, এমনই বলছেন সংশ্লিষ্টরা।



