নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় পরিত্যক্ত পুকুরে পাওয়া গেছে ১৫ টুকরো লাশ। নরসিংদীর রায়পুরায় বাড়িতে ঢুকে গুলি করে এক কৃষককে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। ফরিদপুরের নগরকান্দায় এক শিশুকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক তরুণীকে অচেতন করে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় নিখোঁজের ১০ দিন পর বাংলাদেশ কাস্টম হাউজের সিপাহি আবু রায়হান তালুকদারের (৪০) ১৫ টুকরা খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
রোববার বিকেলে উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের বাড়ির পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা লাশের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আবু রায়হান তালুকদার উপজেলার সোয়াইতপুর উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি কমলাপুর কাস্টম হাউজে সিপাহি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ জুলাই রাতে আবু রায়হান ছুটিতে বাড়িতে আসেন। ওই রাতে বাড়ির কেয়ারটেকার রাজুকে নিয়ে নিজ ঘরে অবস্থান করেন। পরদিন ২৪ জুলাই সকালে কর্মস্থলে যোগদানের উদ্দেশ্যে রাজুর সাথে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ হন।
২৭ জুলাই আবু রায়হানের অফিসের এক সহকর্মী তার চাচাতো বোন, কলেজশিক্ষক নাজমুন্নাহার বিউটিকে ফোন করে জানান, রায়হান কর্মস্থলে যোগ দেননি এবং তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই রাতেই তার বড় ভাই নূরুল ইসলাম ফুলবাড়ীয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
জিডির তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল ঘটনার পর থেকেই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
রোববার সকাল থেকে রায়হানের বাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পূর্বে একটি পরিত্যক্ত পুকুর এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পুকুরে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ব্যাগগুলো খুলে ১৫ টুকরো করা খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে।
ফুলবাড়ীয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে। কেয়ারটেকার রাজু ও তার বন্ধু জিতুল পলাতক থাকায় তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
রায়পুরা (নরসিংদী) সংবাদদাতা জানান, নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারের জেরে বাড়িতে ঢুকে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মোমেন মিয়া (৬০) নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরো পাঁচজন। রোববার সকাল ৯টার দিকে চরাঞ্চলের চাঁনপুর ইউনিয়নের সদাগরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মোমেন মিয়া সদাগরকান্দি গ্রামের মৃত ধন মিয়ার ছেলে। আহতদের একজন হলেন একই গ্রামের সরকারবাড়ির শহীদ মিয়ার ছেলে মো: নাজমুল (৩৫)। তবে অন্য আহতদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদাগরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা মোমেন সরকারের বাড়ি ও একই গ্রামের উত্তরপাড়ার বাসিন্দা সাবেক মেম্বার আবুল কাশেম সমর্থকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে গতকাল সকালে কাশেম মেম্বার ও ফরিদের পক্ষের ২০-২৫ জনের অস্ত্রধারী একটি দল চেয়ারম্যান সমর্থক কৃষক মোমেন মিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় মোমেন মিয়াসহ ছয়জন আহত হয়। রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর গুলিতে আহত মোমেন মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
চাঁনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মোমেন সরকার বলেন, পূর্বপাড়ার কাশেম ও দক্ষিণপাড়ার ফরিদের লোকেরা একতরফা ঘরে ঢুকে গুলি করেছে। তারা অস্ত্রসজ্জিত হয়ে আমাদের লোকজনকে ডাকাডাকি করেছে সংঘর্ষ করার জন্য, কিন্তু আমাদের পক্ষের লোকজন সংঘর্ষ জড়িত না হয়ে বাড়ি ছেড়ে দূরে ছিলেন, তারপরও তারা এমন হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মজিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়েছে, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। দুই পক্ষের মধ্যে পূর্ববিরোধ নিয়ে একজন নিহতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
নগরকান্দা (ফরিদপুর) সংবাদদাতা জানান, ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নে রেললাইনের পাশ থেকে মাহমুদা (৯) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শিশুটিকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে।
শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের রেললাইনের পাশের পারিবারিক কবরস্থানের নিকট থেকে মাহমুদার লাশ উদ্ধার করা হয়। সে ওই গ্রামের ইদ্রিস মোল্ল্যার মেয়ে এবং চার ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট।
নিহত শিশুর চাচা মিজানুর রহমান জানান, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে মাহমুদা বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে পুলিশ তল্লাশি চালিয়ে রেললাইনের পাশ থেকে তার লাশ উদ্ধার করে।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিবেশী বাবলু শেখের সাথে দীর্ঘদিন ধরে তাদের টাকা-পয়সা নিয়ে বিরোধ চলছিল। সেই বিরোধের জের ধরেই তার ভাতিজিকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের সন্দেহ।
নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ আল ফাহাদ বলেন, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’জনকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে আভাস পাওয়া গেছে, অন্য একটি শিশুর সাথে খেলতে গিয়ে আঘাতের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে এর বাইরে অন্য কোনো কারণ বা অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
বাগাতিপাড়া (নাটোর) সংবাদদাতা জানান, নাটোরের বাগাতিপাড়ায় আঁখি খাতুন (৩০) নামের এক গৃহবধূকে বাড়ির পাশের আমবাগান থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। রোববার সকালে উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের ওমরগাড়ি গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। মৃত আঁখি খাতুন ওই গ্রামের হাসান আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, রোববার সকালে বাড়ির প্রায় ২০০ গজ পশ্চিমে থাকা একটি আমবাগানে ছাগল খুঁজতে গিয়ে ছিল আঁখি খাতুনের শাশুড়ি আনজেরা বেগম ও জা মাসুদা বেগম। সেখানেই তাকে একটি গাছের ডালে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করতে থাকলে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ব্যাটারিচালিত ভ্যানে করে রাজশাহীর পুঁঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার জন্য রওনা দেয়। হাসপাতালে নেয়ার পথে তার মৃত্যু হয়েছে বুঝতে পেরে পুঠিয়া রাজবাড়ী এলাকা থেকে লাশ বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হয়।
বাগাতিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। প্রাথমিক সুরৎহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ থানায় নেয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা জানান, লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে স্প্রে ছিটিয়ে অচেতন করে অটোরিকশযাত্রী এক তরুণীকে তুলে নিয়ে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি প্রকাশ করলে ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়া হয় ভুক্তভোগী তরুণীকে। এ ঘটনায় নির্যাতনের শিকার তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের দুই দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেননি।
থানায় দায়ের হওয়া মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চরজাঙ্গালীয় এলাকার বাসিন্দা ওই তরুণী স্থানীয় করুনানগর বাজারে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রিসিপসনিস্ট পদে চাকুরি করছেন। উপজেলার চরফলকন এলাকার ফরিদ আহাম্মদের ছেলে মো: রবিন (২৪) তরুণীকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করে আসছিল।
এ দিকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তরুণী ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ডিউটি শেষ করে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে একটি অটোরিকশয় উঠেন। অটোরিকশাটি হাজিরহাট মেঘনা সিনেমা হল এলাকায় পৌঁছালে সেটিতে থাকা যাত্রী রবিন ও রাকিব তরুণীর মুখে স্প্রে ছিটিয়ে দেন। এতে অচেতন হয়ে পড়লে তারা তরুণীকে হাজিরহাট ইউনিয়নের দক্ষিণ চরজাঙ্গালীয়া এলাকার আর্টিস কিল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে তারা তরুণীটিকে হাত-মুখ বেঁধে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ১০টার দিকে জ্ঞান ফিরলে তরুণী রবিন ও রাকিব ছাড়াও আরো চার যুবককে ইয়াবা সেবনরত অবস্থায় দেখেন। একপর্যায়ে অনেক আকুতি-মিনতি করে কাউকে বিষয়টি না বলার শর্তে তরুণী তাদের কবল হতে সেখান থেকে ছাড়া পান। এ সময় রবিন তরুণীটিকে ঘটনা প্রকাশ করলে ওই সময়ে ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেন। পরে তরুণী বিষয়টি পরিবারকে জানালে তার মা বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে রবিন ও রাকিবের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতনের শিকার তরুণী জানান, সম্প্রতি স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় এক পুত্রসন্তান নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। জীবিকার তাগিদে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চাকুরি নিয়ে কোনো মতে জীবনযাপন করে আসছিলেন। কিন্তু রবিন নামে ওই যুবক তার জীবনে সর্বনাশ ঢেকে এনেছে। ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকিসহ রবিন ও তার সহযোগীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকিতে তারা এখন চরম আতঙ্কে রয়েছেন। তাই অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারসহ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি।



