ইসির সাথে বৈঠক শেষে ডাকসু ভিপি

নির্ধারিত সময়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সম্মতি ইসির

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভাইস প্রেসিডেন্ট (ভিপি) সাদিক কায়েম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাদের আশ্বস্ত করেছে যে, যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়েই দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে।

গতকাল শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ (শাবিপ্রবি) বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদ ও জবাবদিহি দাবি করে ইসির সাথে ডাকসু নেতাদের সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন সাদিক কায়েম ।

তিনি বলেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বাতিল বা স্থগিত করা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত। এ ধরনের সিদ্ধান্ত ছাত্র সমাজ কখনো মেনে নেবে না। জুলাই বিপ্লবের পর বারবার স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে- বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রতিটি ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে। এটি গণতান্ত্রিক চর্চার মৌলিক শর্ত। ইতোমধ্যে দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচন শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা বিস্তৃত এবং নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে।

শাবিপ্রবি ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরাবি) ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ হঠাৎ স্থগিত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ডাকসু ভিপি বলেন, তিন সপ্তাহ আগে নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ করা কোনোভাবেই যৌক্তিক নয়। শিক্ষার্থীরা যাকে ভোট দেবে, তারাই হবে তাদের প্রকৃত নেতা।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন ডাকসু নেতাদের আশ্বস্ত করেছে, যথাযথ নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত সময়েই নির্বাচন আয়োজন করা হবে। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করবে।

সাদিক কায়েমের ভাষায়, এই নির্বাচন কেবল জয়-পরাজয়ের বিষয় নয়, এটি জুলাই প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অর্জনের প্রতীক। যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তারা সবাই জুলাই আন্দোলনের সহযোদ্ধা। যারা একসাথে ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়েই দেশের গণতান্ত্রিক ধারা সুসংহত হবে এবং শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের নেতৃত্ব বেছে নেয়ার সুযোগ পাবে। সেই সাথে আসন্ন গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ সম্ভব হবে।

ডাকসু ভিপি জানান, দেশের সব শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করে, রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির সাথে সমন্বয় করে মাসব্যাপী নির্বাচনী সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাবে ডাকসু। এর লক্ষ্য- প্রতিটি ক্যাম্পাসে সময়মতো, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, আমাদের শহীদদের আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা। ছাত্র সংসদ নির্বাচন সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে- এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে থাকুন : আসন্ন গণভোটের বিষয়ে সাদিক কায়েম বলেন, ছাত্ররা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করবে। যারা ‘না’ ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা মূলত বিগত আমলের ফ্যাসিবাদ ও অপকর্মগুলোকে টিকিয়ে রাখতে চায়।

তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা ‘না’ ভোটের ক্যাম্পেইন করছে তারা ফ্যাসিস্ট। তারা বাংলাদেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যেতে চায়। জনগণ তাদের লাল কার্ড দেখাবে। তারা শাপলা চত্বরের মতো ম্যাসাকার, আলেম-ওলামা হত্যা এবং পিলখানা ট্র্যাজেডির মতো ঘটনা পুনরাবৃত্তি করতে চায়। তারা আয়নাঘর তৈরির মাধ্যমে গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করতে চায়। তাই দেশের স্বার্থে গণভোটে অবশ্যই ‘হ্যাঁ’ প্রতীকে সিল মেরে বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।